রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সহযোগী ছিল সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না, আজ আদালতে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

admin

May 24, 2026

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সহযোগী ছিল সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না, আজ আদালতে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

আদালট ও অপরাধ প্রতিবেদক, RDM News 24
ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী দম্পতি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করছে পুলিশ। মামলার তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের নেপথ্যে প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন রানার স্ত্রী স্বপ্না। তিনিই মূলত কৌশলে শিশুটিকে ঘটনার দিন নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন।

আজ রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান চার্জশিট প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুই আসামির বিরুদ্ধে সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এটি জমা দেওয়া হবে।”

কৌশলে ডেকে এনে বাথরুমে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা
অভিযোগপত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা আক্তার পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুঁসলিয়ে ও কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য তার মা-বাবা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই দম্পতির ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সন্দেহ হওয়ায় ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে, রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকহীন দেহ এবং বাথরুমের একটি বড় বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।

ফ্ল্যাট থেকে স্ত্রী আটক, ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি
হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। স্থানীয় জনতা ও পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন লালসা চরিতার্থ করতে রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে প্রমাণ লোপাট করতে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত ১৯ মে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার দিনই স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং একই দিন তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মাত্র ৫ দিনের মাথায় এই নৃশংস মামলার চার্জশিট জমা দিচ্ছে পুলিশ।

আদালত ও অপরাধ ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ