‘তেলাপোকারা মরে না’: ওয়েবসাইট বন্ধের পর নতুন সাইট আনছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা
আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া ডেস্ক, RDM News 24
নয়াদিল্লি, ভারত: ২৪ মে ২০২৬: ভারতে রাতারাতি তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক গ্রুপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ হলেও দমে যাননি এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘তেলাপোকারা কখনো মরে না’, তারা দ্রুতই নতুন ওয়েবসাইট নিয়ে ফিরছেন।
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মূলত এই ব্যঙ্গাত্মক গ্রুপটির উৎপত্তি। প্রধান বিচারপতি দেশের বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন—এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুবসমাজের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে এই গ্রুপটি তৈরি করে। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে তিনি ঢালাওভাবে দেশের যুবসমাজকে নয়, বরং ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’দের বোঝাতে এই রূপক ব্যবহার করেছিলেন। তবে ততক্ষণে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সিজেপি’র অনলাইন ফলোয়ারের সংখ্যা বর্তমানে ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও সাইবার হামলার অভিযোগ
গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিত দিপক জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্মকর্তারা তাদের মূল ওয়েবসাইটটি ব্লক করে দিয়েছেন। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তারা তেলাপোকাকে এত ভয় পান কেন?” দিপক স্পষ্ট করেন যে সিজেপি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি অলস ও বেকার যুবকদের একটি প্রতীকী কণ্ঠস্বর।
আইনি নোটিশের প্রেক্ষিতে ভারতে সিজেপি’র ২ লাখেরও বেশি ফলোয়ার থাকা অফিশিয়াল এক্স পেজটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দিপক দাবি করেছেন, তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম এবং সিজেপি’র মূল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
বিজেপি বনাম ককরোচ জনতা পার্টি
২০১৪ সাল থেকে ভারতের ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’র (বিজেপি) নামের সাথে ব্যঙ্গ মিলিয়ে এই গ্রুপের নাম রাখা হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি বিভিন্ন বিদ্রূপাত্মক ছবি এবং ‘#MainBhiCockroach’ (আমিও তেলাপোকা) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে গ্রুপটি ভারতের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে এই গ্রুপটির ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের বেশি, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের তেলাপোকার পোশাক পরে রাস্তায় নামতে এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও প্রতীকী বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে।
জনপ্রিয়তার নেপথ্যে ভারতের তীব্র বেকারত্ব সংকট
এর আগে বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিপক বলেছিলেন, এই গ্রুপের এই নজিরবিহীন ও দ্রুত জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো ভারতের বিপুলসংখ্যক তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ। মূলধারার রাজনীতিতে তরুণদের উপেক্ষা করার যে অনুভূতি, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখ্য, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী। কিন্তু বিশাল এই যুবসমাজের কর্মসংস্থানের অভাব এবং রাজনীতিতে তাদের সীমিত অংশগ্রহণই এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনকে রাতারাতি একটি বড় গণজাগরণে রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক ও মিডিয়া ডেস্ক | RDM News 24 | নয়াদিল্লি, ভারত