’২৪-এর তুলনায় ২০২৫ সালে ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা হয়েছিলো ৬ গুণ বেশি হাম-রুবেলার টিকা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদক, RDM News 24
ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: দেশে হাম ও রুবেলার সংক্রমণে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ২০২৬ সালে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সংক্রমণের এই ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ইউনিসেফের সরবরাহ করা টিকার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে হাম-রুবেলার টিকা ৬ গুণ বেশি কেনা হয়েছিল।
ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে হামের রোগী ছিল ১১ হাজার ৭৭ জন। ১৯৮৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৩২৭-এ। ২০০৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। কিন্তু বিগত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ২০২৬ সালে এসে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন হাম ও এর উপসর্গে হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও এবার ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন।
টিকা কেনায় ভুল নীতি ও ইউনিসেফের পরিসংখ্যান
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত দুই বছর দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনার নীতিতে পরিবর্তন এনে ‘উন্মুক্ত টেন্ডারের’ মাধ্যমে চাহিদার ৫০ শতাংশ টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দেশে চরম টিকা সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে ইউনিসেফের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টিকা সংগ্রহ করতে হয়।
ইউনিসেফের সরবরাহ বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:
* ২০২৩ সাল: নিয়মিত টিকাদানের জন্য চার মাসে মোট ৬২ লাখ ১৭ হাজার ডোজ হাম-রুবেলার টিকা সরবরাহ করে ইউনিসেফ।
* ২০২৪ সাল: সরবরাহ প্রায় ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ডোজে।
* ২০২৫ সাল: ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট সংকট কাটাতে এই বছর ইউনিসেফ মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডোজ টিকা সরবরাহ করে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ গুণ বেশি। এর মধ্যে সম্পূরক টিকাদানের জন্যই আনা হয় ৭০ লাখ ডোজ।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত
দেশব্যাপী বর্তমানে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চলছে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার দাবি করলেও, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি জানান, এখনো গ্রামাঞ্চলে ২০ শতাংশের বেশি এবং শহরাঞ্চলে ৩০ শতাংশের বেশি শিশু টিকাদানের বাইরে রয়ে গেছে। টিকাদানে কর্মী সংকট এবং গত দুই বছরের গাফিলতিকেই এই মহামারির জন্য দায়ী করছেন তিনি।
ডা. মুশতাক হোসেন আরও বলেন, “জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা কেনার নিয়ম অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।” বিশেষজ্ঞদের এই দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকার নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে আর উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে নয়, সরাসরি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেই সব ধরনের টিকা ক্রয় করা হবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ