কখনো যুবলীগ, কখনো যুবদল — রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে অপকর্মে জড়িত সোহেল রানা
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ কর্মী সোহেল রানার পরিবার ও এলাকাবাসী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। এমনকি তার বাবা-মাও এর ব্যতিক্রম নন।
শুক্রবার (২২ মে) নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকায় সোহেল রানার অতীত নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি এমন কেউ নেই। মাদক, অনলাইন জুয়া, চুরি, পরকীয়া — একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় তিনি ছিলেন যুবলীগের ‘পরিচয়ধারী’ ত্রাস। একটি সেতুর নির্মাণ সামগ্রী ও রড চুরির মামলায় জেল খেটেছেন। গরু চুরিতেও ধরা পড়েছিলেন। মানুষের কাছ থেকে ধার নিয়ে এলাকাছাড়া হয়ে ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন চার বছর আগে। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে।
সোহেল রানার বাবা জেকের আলী বলেন, “ছেলে মদ-জুয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। মানুষের ধার শোধ করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার।” মা খাদিজা বেগম বলেন, “এমন কুলাঙ্গার ছেলের প্রতি আর ভালোবাসা নেই। সে খুব খারাপ কাজ করেছে — বিচার চাই।”
প্রতিবেশী ও সাবেক কাউন্সিলর মহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে যুবলীগের রাজনীতিতে জড়ায় সোহেল রানা। নিজেকে ‘এসএম রানা’ পরিচয় দিয়ে বাজারে বিলবোর্ড দিত। সাবেক ওয়ার্ড সদস্য জনাব আলী বলেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের ছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সে।
নিষ্পাপ শিশু রামিসার মৃত্যুর পর এখন মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে একটাই দাবি — সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি।
ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ