সোমবারে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র, জুনে আসছে নতুন সৌরবিদ্যুৎ নীতি

admin

May 23, 2026

সোমবারে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র, জুনে আসছে নতুন সৌরবিদ্যুৎ নীতি

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে আগামী সোমবার (২৫ মে) বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে সরকার। একই সাথে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গতিশীল করতে আগামী জুনের মধ্যে একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও বিনিয়োগবান্ধব ‘সৌরবিদ্যুৎ নীতি’ প্রকাশ করা হবে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) ঢাকায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতিবিষয়ক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার অনুসন্ধান কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কার এবং পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির বহুমুখীকরণে মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিগত ১৭ বছরে সাগরে উল্লেখযোগ্য বা দৃশ্যমান কোনো অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায়নি, যা দেশের জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে তুলেছে।

খালেদা জিয়ার আমলের উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে দেশ
বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় ধরনের অফশোর (সমুদ্রে) অনুসন্ধান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ১৯৯১ সালে, তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে। পরবর্তীতে সেই সফল উদ্যোগের সুবাদেই বহুজাতিক কোম্পানি ‘শেভরন’ এখন বিবিয়ানা ও জালালাবাদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্যাস উৎপাদন করে দেশের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে। আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুদ্রসীমা বিরোধে জয়লাভ করলেও এতদিন সমুদ্রের বিশাল সম্পদ উত্তোলন করতে পারিনি। এই ঐতিহাসিক ঘাটতি পূরণে আগামী সোমবার অফশোর অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র (পিএসসি) আহ্বান করা হচ্ছে।”

বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ ও যৌথ উদ্যোগের পরামর্শ
মন্ত্রী জানান, নতুন ও অত্যাধুনিক রিগ (খননযন্ত্র) ক্রয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি ‘বাপেক্স’-কে টেকনিক্যালি শক্তিশালী করছে বর্তমান সরকার। তবে গভীর সমুদ্রে বড় আকারের খননকাজে বাপেক্সের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা সরাসরি স্বীকার করে তিনি বলেন, ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্রের সম্পদে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জায়ান্ট তেল কোম্পানিগুলোর (IOC) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে (Joint Venture) আসন্ন দরপত্রে অংশ নিতে বাপেক্সকে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য
সরকারের পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির রোডম্যাপ তুলে ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তবে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়নের প্রধান বাধা ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক।

তিনি বলেন, “সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারির ওপর বর্তমান কর কাঠামো অনেক বেশি, যা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। এই ট্যাক্স ও শুল্ক-সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। জুনের মধ্যে নতুন সৌরনীতি চূড়ান্ত হলে বিনিয়োগের ঢল নামবে।” সরকার তার মেয়াদের শেষ নাগাদ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও, শুল্ক বাধা দূর হলে এই উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

জ্বালানি ও করপোরেট ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ