প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি: সচিবালয়ের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

admin

June 4, 2026

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি: সচিবালয়ের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের অভিযানে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার উদ্ধার; চুরির নেপথ্যে সংঘবদ্ধ চক্র।

ঢাকা: বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বসম্পন্ন ‘লাল টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী এবং অন্যজন ভাঙারি ব্যবসায়ী। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চুরির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ছায়া তদন্তের পর চালানো বিশেষ অভিযানে আসামিদের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত সম্পূর্ণ তামার তার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মচারী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের ভাঙারি দোকানদার রেজাকুল ইসলাম (৩২)। সিটিটিসির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেছেন যে, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি অত্যন্ত গোপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বিশেষ টেলিফোন সংযোগের তারটি কেটে চুরি করেন। পরবর্তীতে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত রেজাকুলের ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এই মূল্যবান তামার তার বিক্রি করে দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ দপ্তরের এই চুরির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়, যা দেশের সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের ভেতরেও চরম নিরাপত্তার উদ্বেগের জন্ম দেয়।

এই স্পর্শকাতর ঘটনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দেশের রাষ্ট্রীয় দূরযোগাযোগ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পরপরই সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে এবং নিবিড় ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমে রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে চুরি হওয়া সম্পূর্ণ তারটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, সচিবালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি বড় ও সুসংগঠিত অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সাথে প্রশাসনের ভেতরের অন্য কোনো অসাধু কর্মচারী বা বাইরের কোনো সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই চক্রের মূল হোতাদের সম্পূর্ণভাবে শনাক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই বিশেষ নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অপরাধ প্রতিবেদক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ