গরু কোরবানি ঈদুল আজহার অংশ নয়’: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পশুবলি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, RDM News 24
কলকাতা, ভারত: আসন্ন ঈদুল আজহার আগে প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নির্দেশনা বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সাথে রাজ্য সরকারের এই নিয়ন্ত্রণমূলক আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আদালত।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত কলকাতা হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ প্রকাশ্য জনসমক্ষে গরু ও মহিষ জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার এই রায় দেন। আইনি সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, প্রকাশ্য স্থানে যেকোনো ধরনের পশু জবাই আইনত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া ইসলামের অনবদ্য অংশ হিসেবে গরু কোরবানি কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়। রায়ে বলা হয়, “প্রকাশ্য উন্মুক্ত স্থানে গরু ও মহিষসহ যেকোনো পশু জবাই করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের ‘মোহাম্মদ হানিফ কোরেশী বনাম বিহার রাজ্য’ মামলার রায় অনুযায়ী, গরু কোরবানি ঈদুল আজহা উৎসবের কোনো অংশ নয় এবং ইসলাম ধর্মে এটি বাধ্যতামূলক কোনো ধর্মীয় অনুশাসনও নয়।”
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা এই পশুবলি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রসহ বেশ কয়েকজন আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। আবেদনকারীরা পশুবলি নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী উৎসবের দিনগুলোতে ধর্মীয় আচার পালনের জন্য বিশেষ ছাড়ের আবেদন জানান। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে জানায়, ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আইনসম্মতভাবেই কার্যকর থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিতর্কিত এই আদেশে কী বলা হয়েছিল?
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১৩ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ বা স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো অবস্থাতেই পশুবলি বা জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাস্তাঘাট বা যেকোনো ধরনের প্রকাশ্য উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ থাকবে। সরকারের এই কঠোর নীতিমালার পরেই পশ্চিমবঙ্গ পশুবলি নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ধারাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক পিটিশন দায়ের করা হয়, যা শুনানির পর খারিজ করে দেয় আদালত।
আন্তর্জাতিক ও উপমাহদেশীয় ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ