ভারতীয় গরু আমদানি কমায় কোরবানির ঈদে ভালো লাভের আশা দেশি খামারিদের
বাণিজ্য প্রতিবেদক, RDM News 24
ঢাকা, বাংলাদেশ: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশের পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে অস্থায়ী হাটগুলোতে। বিগত বছরগুলোর মতো শেষ মুহূর্তে এবার পশুর দামে ধস নামবে না—এমন প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ব্যাপক হ্রাস পাওয়া এবং দেশের বড় বড় বাণিজ্যিক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এবার পশুর হাটে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় খামারিরা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পোস্তগোলা পশুর হাট ঘুরে ব্যবসায়ী ও খামারিদের সাথে কথা বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-এর এক অনুসন্ধানে পশুর বাজারের এই সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিজের খামারের ১১টিসহ মোট ২৬টি গরু নিয়ে পোস্তগোলা হাটে এসেছেন খামারি মনিরুল মিয়া। তিনি জানান, এবার সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, সীমান্ত সংলগ্ন পশুর হাটগুলো বন্ধ থাকা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু পরিবহনে কঠোর কড়াকড়ির কারণে ভারতীয় গরুর আমদানি নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। এটি সরাসরি দেশি খামারিদের মুখে হাসি ফোটাবে।
বড় খামার বন্ধ হওয়ায় বাজারে পশুর যৌক্তিক সরবরাহ
ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অনেক বড় বড় বাণিজ্যিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা এসব মেগা খামার—যা প্রতি বছর শত শত গরু বাজারে সরবরাহ করত—তা গোখাদ্যের আকাশচুম্বী দাম, চুরির প্রকোপ, ব্যাংক ঋণ সংকট এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। কেবল চট্টগ্রামেই প্রায় ৫০০-এর বেশি ডেইরি ও ক্যাটল ফার্ম বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে বাজারে পশুর অতিরিক্ত বা কৃত্রিম উপচে পড়া সরবরাহ (Oversupply) নেই। ফলে দাম স্থিতিশীল ও যৌক্তিক থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
যশোরের মনিরামপুর থেকে ৩২ ট্রাক গরু নিয়ে রাজধানীর টিটি পাড়া মোড়ে এসেছেন মহিন বেপারী। তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা কোরবানির হাটে লোকসান দিয়েছি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বড় বড় খামার বন্ধ থাকায় আমাদের মতো মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিরা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।” এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতারা একাধিক পশু কোরবানি দেওয়ায় পশুর চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
পরিসংখ্যান বনাম মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (DLS) সরকারি তথ্যমতে, এবার দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটির কিছু বেশি। এর বিপরীতে সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ বেশি। তবে মাঠপর্যায়ের খামারি ও ব্যবসায়ীরা এই সরকারি পরিসংখ্যানের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, গত দেড় বছরে গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে যে শত শত খামার নীরবে হারিয়ে গেছে, সরকারি তথ্যে সেই বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি।
এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ এবার রাজধানীতে মোট ২৪টি পশুর হাট বসছে। আর সারা দেশে এই সংখ্যা ৩,৬০০-এরও বেশি। ঢাকার শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের মাঠ এবং কমলাপুর আইসিডির আশপাশের রাস্তাগুলোতে বাঁশের খুঁটি গেড়ে হাট প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে। তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচাতে পশুর গায়ে পানি ছিটানো এবং খড়-পানির ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাখালরা। হাটে এখন পর্যন্ত ক্রেতারা মূলত দরদাম যাচাই করছেন। খামারিদের প্রত্যাশা, ঈদের ঠিক দুই থেকে তিন দিন আগে থেকে পুরোদমে শুরু হবে মূল বেচাকেনা।
বাণিজ্য ও খামার ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ