একই স্থানে বাথরুম ও টয়লেট, অজু ও দোয়ার বিধান কী
ইসলামে পবিত্রতা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য শরীর, পোশাক ও স্থান পাক-পবিত্র রাখা জরুরি। আধুনিক বাসাবাড়িতে এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টয়লেট ও গোসলখানা একসঙ্গে থাকে। এ ধরনের স্থানে অজু করা এবং দোয়া পড়া নিয়ে ইসলামে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, টয়লেট ও গোসলখানা একই স্থানে থাকলেও সেখানে অজু করা জায়েজ। তবে অজুর সময় নাপাকি থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কমোড বা প্যান থেকে যেন কোনো অপবিত্রতা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সম্ভব হলে টয়লেটের অংশটুকু পর্দা বা পার্টিশনের মাধ্যমে আলাদা করে নেওয়া উত্তম। এতে পবিত্রতা বজায় রাখা সহজ হয়। যদি আলাদা করার সুযোগ না থাকে, তাহলে কমোডের অংশ ছাড়া বাকি স্থান অজু বা গোসলের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
আলেমদের মতে, টয়লেটের ভেতরে মুখে উচ্চারণ করে আল্লাহর নাম বা দোয়া পড়া উচিত নয়। কারণ টয়লেট নাপাক স্থান হিসেবে বিবেচিত। তবে অজুর সময় মনে মনে ‘বিসমিল্লাহ’ ও অজুর দোয়াগুলো পড়া যাবে। এতে দোয়ার সওয়াবও পাওয়া যাবে এবং আল্লাহর নামের মর্যাদাও রক্ষা পাবে।
যদি বাথরুমে শুধু গোসলের ব্যবস্থা থাকে এবং টয়লেট না থাকে, তাহলে সেখানে মুখে দোয়া পড়তে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু টয়লেট সংযুক্ত থাকলে মুখে জিকির বা দোয়া না করাই উত্তম আদব।
হাদিসে অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তবে টয়লেটে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন অনেক আলেম। এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিস ও ফিকহের কিতাবে নির্দেশনা পাওয়া যায়।
আলেমরা আরও বলেন, সম্ভব হলে বাথরুমে পার্টিশন বা আড়ালের ব্যবস্থা করা ভালো। এতে অজুর দোয়া পড়া সহজ হয় এবং পবিত্রতার পরিবেশ বজায় থাকে। তবে পার্টিশন না থাকলেও অজু শুদ্ধ হবে। সেক্ষেত্রে মনে মনে দোয়া পড়াই উত্তম।
ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে, যদি বাথরুমে পর্যাপ্ত পানি ঢেলে নাপাকি দূর করা হয়, তাহলে সেই স্থান পাক হয়ে যায়। তখন সেখানে অজু, গোসল ও প্রয়োজনীয় দোয়া করা জায়েজ।
তবে আল্লাহর নামের মর্যাদার কথা বিবেচনা করে অনেক আলেম মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে দোয়া পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, সম্ভব হলে অজুর শুরুটা বাথরুমের বাইরে সম্পন্ন করা ভালো।
#RDM_News_প্রতিনিধি