মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্রে রেখে আসছে বাজেট ২০২৬-২৭ — প্রতিশ্রুতি যতটা, বাস্তবতা ততটা কি?
আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের রূপরেখা এরই মধ্যে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থেকে যা বোঝা যাচ্ছে, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো ‘মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়ন।’ এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক — কারণ প্রতিটি বাজেটেরই একটি উন্নয়নদর্শন থাকা উচিত, আর সেই দর্শনের কেন্দ্রে মানুষ থাকাটা সবচেয়ে জরুরি।
সংকটের মাঝে বাজেট
এবারের বাজেট তৈরি হচ্ছে দ্বিমাত্রিক সংকটের মধ্যে — একদিকে দেশীয় অর্থনীতির চাপ, অন্যদিকে বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে মিতব্যয়িতার কথা উঠবেই। কিন্তু বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন — সামষ্টিক অর্থনীতি ঠিক করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে যেন বাড়তি চাপ না পড়ে। এবারের বাজেট মিতব্যয়িতা ও জনকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।
ভর্তুকি প্রশ্নে আইএমএফের চাপ থাকলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের ভর্তুকি কমানো ঠিক হবে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবন ও খাদ্যনিরাপত্তা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে।
সামাজিক সুরক্ষায় জোর
বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রথম পর্যায়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ লাখ পরিবার বা ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টিও বাজেট আলোচনায় এসেছে।
কৃষি ও কর্মসংস্থানে মনোযোগ
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২২ হাজার কৃষক সহায়তা পাবেন, বরাদ্দ থাকছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কারিগরি প্রশিক্ষণ, আইসিটি ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়
তবে সব আশার কথার মাঝেও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার সামান্য ৩ শতাংশের বেশি থাকলেও আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। বিনিয়োগ জাতীয় আয়ের ৩১ শতাংশ এবং রাজস্ব আয় ১০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে গেছে।
নারীর প্রতি অবহেলা
একটি দুর্বলতা স্পষ্ট — নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাজেট আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত। নারীর কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা সুবিধা ও প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো যদি বাজেটে যথাযথ স্থান না পায়, তাহলে সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী বাজেট তৈরি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ