সংকটে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে রুশ তেলের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র জানালেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট
ইরান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ‘জ্বালানি-ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলোকে সহায়তা করতে রাশিয়ার সমুদ্রবাহী তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত সোমবার (১৮ মে) এই ছাড়ের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে পুনরায় মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ট্রাম্প প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট জানান, গত শনিবার আগের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রেজারি বিভাগ নতুন করে ৩০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করছে। এটি বড় রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করেই ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা রুশ তেল ও জ্বালানি পণ্য ব্যবহারের সাময়িক অনুমতি দেবে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গালফ বা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, ‘এই বর্ধিত মেয়াদ অতিরিক্ত নমনীয়তা নিশ্চিত করবে এবং আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী এসব দেশের সঙ্গে কাজ করব। এই সাধারণ লাইসেন্স তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে জ্বালানি পৌঁছাতে সাহায্য করবে।’
গত মাসে স্কট বেসেন্ট অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন যে, রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সোমবার তিনি যুক্তি দেন যে, এই পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি অভাবী দেশগুলো চীনে চলে যাওয়া তেলের একটি অংশ নিজেদের জন্য পাওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন দুই জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যঁ শাহীন এবং এলিজাবেথ ওয়ারেন। তারা এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি ‘অন্যায় উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ‘এই লাইসেন্স থেকে ক্রেমলিন যে অতিরিক্ত অর্থ আয় করবে, তা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের অবৈধ যুদ্ধে অর্থায়ন করতে এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করতে সহায়তা করবে।’ তারা আরও দাবি করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার ছাড়ে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমছে না কিংবা বৈশ্বিক বাজারও স্থিতিশীল হচ্ছে না।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে চাপে ফেলতে গত বছর রুশ তেল জায়ান্ট ‘রোসনেফট’ ও ‘লুকঅয়েল’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় এবং সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় মার্চ মাসে প্রথম এই সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই ছাড় কেবল ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, রাশিয়ার বর্তমানে উত্তোলিত নতুন তেলের ক্ষেত্রে নয়।
আন্তর্জাতিক ও জ্বালানি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ