গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’ — ট্রাইব্যুনালে কাঁদতে কাঁদতে সাক্ষ্য দিলেন আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিন

admin

May 20, 2026

‘গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’ — ট্রাইব্যুনালে কাঁদতে কাঁদতে সাক্ষ্য দিলেন আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার যে সাক্ষ্য দেওয়া হলো, তা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছেন আদালতে উপস্থিত সবাই। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ মো. রুহুল আমিন (৫৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের হুমকি দিয়েছিল — “এদেরকে গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।”

রুহুল আমিন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় এই মামলা।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, ১৯ জুলাই দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচা বাজারে আন্দোলন দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে ছাত্রদের ওপর গুলি করতে দেখেন। ভয়ে ফিরে যাওয়ার সময় একটি গুলি তার কোমরের নিচে দিয়ে ঢুকে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় — আদালতে তিনি গুলিবিদ্ধ স্থানটি দেখান।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পর পরদিন ২০ জুলাই রাতে তাকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে কোনো কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি। বাসায় ফিরলে আওয়ামী লীগের লোকজন হুমকি দেয় — “তুমি গুলি খেয়েছ, এই এলাকায় থাকতে পারবে না।” পরে নিজ খরচে ফরায়েজি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বর্তমানে কোনো কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা নেই এই বাবার। দুই মেয়ে আছে, ছেলে নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আসামিদের বিচার চাই।”

মামলার চার আসামির মধ্যে বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর রাফাত বিন আলম মুনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। পুলিশের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মশিউর রহমান এখনো পলাতক।

ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ