ঢাবি প্রশাসনে বড় রদবদল, একের পর এক পদত্যাগে বাড়ছে আলোচনা
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ধারাবাহিক পরিবর্তন ও পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। উপাচার্য থেকে শুরু করে উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের রদবদল দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, প্রশাসনিক এই পরিবর্তন শুধু ব্যক্তি বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের একটি বড় প্রক্রিয়ার অংশ।
এই ধারাবাহিকতার শুরু হয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগের মাধ্যমে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
এরপর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদেও পরিবর্তন আসে। অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের পদত্যাগ। তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পান চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং রতন।
এর একদিন পর সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
নিজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকতা জীবনে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা আগে কখনো ছিল না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এবং দায়িত্ববোধ থেকে তিনি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি আরও লেখেন, দায়িত্ব পালনকালে একটি দক্ষ টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদে বদলি, পুনর্বিন্যাস ও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে এসব পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তার দাবি, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ