মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ অবনমন: দ্রুত ডুবে যাচ্ছে মেক্সিকো সিটি
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেগাসিটি মেক্সিকো সিটি এখন এক ভয়াবহ ভূ-প্রাকৃতিক সংকটের মুখে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সাম্প্রতিক রাডার-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শহরটি দ্রুতগতিতে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে—এতটাই যে পরিবর্তন মহাকাশ থেকেও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটির কিছু অংশ প্রতি মাসে প্রায় আধা ইঞ্চির বেশি করে নিচে নেমে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই হার বার্ষিক হিসাবে কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, যা বিশ্বের দ্রুত অবনমনশীল শহরগুলোর মধ্যে একে অন্যতম করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শহরটি প্রাচীন একটি হ্রদ এলাকার ওপর গড়ে উঠেছে। নিচে থাকা ভূগর্ভস্থ পানিস্তরই বহু বছর ধরে শহরের পানির বড় উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই শহরের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে মাটির ভেতরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত নগরায়ন ও ভারী অবকাঠামো নির্মাণ। নরম কাদামাটির ওপর লাগামহীন নির্মাণ কাজ শহরের নিচের স্তরের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে, যা অবনমন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
এই সমস্যা নতুন নয়—১৯২০-এর দশক থেকেই শহরটির ধীরে ধীরে ডুবে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর গতি অনেক বেড়ে গেছে। ফলে রাস্তাঘাট ফেটে যাওয়া, ভবন হেলে পড়া এবং পরিবহন অবকাঠামোর ক্ষতির মতো সমস্যা নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
শহরের অন্যতম প্রতীক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের নিচে সময়ের সঙ্গে নতুন ধাপ যোগ করতে হয়েছে, যা এই অবনমনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বেনিতো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ও ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
নাসা ও ইসরোর যৌথ ‘NISAR’ স্যাটেলাইট মিশনের নতুন পর্যবেক্ষণে এই অবনমনের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়েছে। উন্নত রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির সামান্য পরিবর্তনও নিখুঁতভাবে ধরা পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের তথ্য শুধু মেক্সিকো সিটির জন্য নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ