হাসিনার অনুগত বিচারকরা এখনো জবাবদিহির বাইরে

admin

May 12, 2026

হাসিনার অনুগত বিচারকরা এখনো জবাবদিহির বাইরে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু বদলেছে। পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তারা পর্যন্ত জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু একটি শ্রেণি এখনো অক্ষত — হাসিনার শাসনকে টিকিয়ে রাখতে যে বিচারকরা আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন, তাঁরা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মোমবাতির আলোয় যে বিচার হতো

রাত আটটা, নয়টা — এমনকি মধ্যরাতেও থামেনি আদালত। লোডশেডিং হলে মোমবাতি জ্বালিয়ে চলত শুনানি। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে একদিনেই রেকর্ড করা হতো ১৫-১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি। আদালতের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর একাধিক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম চালিয়েছে। একজন ৭১ বছর বয়সী অসুস্থ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একই দিনে দুটি আলাদা সেশনে — সকাল থেকে দুপুর এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত — শুনানি পরিচালিত হয়।

পুরস্কারের বিনিময়ে বিচার

আইনজীবী ও আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রাখতে পাঁচ বিচারপতি সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। বারবার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে বন্দিত্বে রাখার বিনিময়ে তাঁরা পদোন্নতি ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্ন আদালতে ১২ বছরের সাজা পরে হাইকোর্টে বাড়িয়ে ১৭ বছর করা হয় — যা আইন বিশেষজ্ঞরা বিচারিক প্রহসনের নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

একইভাবে, ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ১৫৮টি মামলার তালিকা পাঠিয়ে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহে বিএনপি ও জামায়াতের এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

সংখ্যায় ১৫ বছরের অবিচার

বিচারবহির্ভূত হত্যা: ৪,০০০-এরও বেশি
গুমের শিকার: ৭০০-এরও বেশি
মিথ্যা মামলার আসামি: ৬০ লাখেরও বেশি
বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মোট মামলা: ১,৪১,৬৩৬টি

বর্তমানে অধস্তন আদালতে কর্মরত ২,১৮৫ বিচারকের মধ্যে ১,৮৪১ জনই হাসিনা আমলে নিয়োগ পেয়েছেন। এদের একটি বড় অংশের সরাসরি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ।

আইনমন্ত্রী কী বললেন

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা আর বিচারকের আসনে রাজনৈতিক আনুগত্যের মানুষ চাই না। মোমবাতি জ্বালিয়ে মধ্যরাতে যারা বিরোধীদের দমন করেছেন, জনগণ তাদের বিচার দেখতে চায়। আমি খতিয়ে দেখছি — কারণ জনগণের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে।”

বিচার বিভাগের সংস্কার এখন সময়ের দাবি। প্রশ্ন হলো — ন্যায়বিচার কি শুধু অন্যদের জন্য, নাকি যারা বিচার করেছেন তাদের জন্যও?

ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ