হামের ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারীরাও, বাড়ছে স্বাস্থ্যজটিলতার আশঙ্কা
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হামের প্রাদুর্ভাবে এখন শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় হাম হলে মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়মতো টিকাদান না হওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর মিরপুরের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী জানান, তার পাঁচ বছরের সন্তান প্রথমে হামে আক্রান্ত হয়। পরে সন্তানের পরিচর্যা করতে গিয়ে তিনিও জ্বর, দুর্বলতা ও শরীরে দানা ওঠার মতো উপসর্গে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে তার শরীরেও হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ জন। এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এখন গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক বলেন, গর্ভাবস্থায় হাম হলে শিশুর জন্মগত জটিলতা, কম ওজন নিয়ে জন্ম, হৃদরোগ এমনকি গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত রোগীর কাছাকাছি গেলে মাস্ক ব্যবহার, বারবার হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি জানান, গর্ভবতী নারীদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় তারা সংক্রামক রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই হামের বিস্তার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ