সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ টানতে ৫ বছরের কর অবকাশ ও শূন্য শুল্কের পরিকল্পনা — পাকিস্তান মডেল অনুসরণের ভাবনা
সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পাঁচ বছরের কর অবকাশ এবং আমদানিতে নামমাত্র বা শূন্য শুল্কের সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, রাজস্বের আগে বিনিয়োগ দরকার। পাঁচ বছরের কর অবকাশ দিলে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন এবং সেই মেয়াদ শেষেই স্বাভাবিকভাবে সরকার কর পাবে। সোলার ফ্রেম, ফটোসেল ও ব্যাটারি — এই তিনটি পণ্যের শুল্ক কমাতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী জুনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
পাকিস্তানের সাফল্যের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, সেখানে সরকার নিজে সোলার সরঞ্জাম আমদানি করে বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনাসহ দিয়েছে — এবং সেটি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশেও একই পথে হাঁটা সম্ভব। পোশাক খাতে ১৯৭৯ সালে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা দিয়ে যেভাবে বিপ্লব এসেছিল, সৌরবিদ্যুতেও তেমন বড় নীতিগত পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছাদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের সব ছাদ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হলে শুধু এই দুই এলাকা থেকেই এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ শিল্পখাতে সরবরাহ করা যাবে।
কর্মশালাটি আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ শিল্পনগরে (এনএসইজেড) সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ পিপিপি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। বেজা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রকল্পটি বেজা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ইউএনডিপি ও এডিবির যৌথ সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম যুক্ত হওয়ায় এটি ভবিষ্যৎ সৌরপ্রকল্পের আদর্শ মডেল হিসেবেও কাজ করবে।
অর্থনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ