সত্যের কণ্ঠ থামাতে খুন — ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম হত্যার পেছনে কোটি টাকার মাদক সিন্ডিকেট

admin

May 16, 2026

সত্যের কণ্ঠ থামাতে খুন — ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম হত্যার পেছনে কোটি টাকার মাদক সিন্ডিকেট

সত্য বলায় যার মৃত্যু হলো

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন যুগের প্রত্যাশা। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এখনো চলছে ভিন্ন আরেক নিয়মের রাজত্ব — যেখানে সত্য বললে মৃত্যু অনিবার্য।

গত ২৪ মার্চ ২০২৬। কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রাম। ৩০ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকে তার নিজের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে মাদক, চোরাচালান ও স্থানীয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন তিনি। সেই সাহসের মূল্যই তাকে জীবন দিয়ে চুকাতে হলো।

প্রধান আসামি আবদুল আউয়াল (৪৮)-কে ২৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে RDM News 24-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে — এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল একজন নয়, রয়েছে পুরো একটি সংগঠিত মাদক সিন্ডিকেট।

‘বাদশাহ জুয়েল সিন্ডিকেট’ — কসবা সীমান্তের আতঙ্ক

কসবা সীমান্তজুড়ে একক আধিপত্য বিস্তার করে রয়েছে কুখ্যাত ‘বাদশাহ জুয়েল সিন্ডিকেট’। বেনামি সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই অপরাধ চক্র তিনটি মূল কার্যক্রমে সক্রিয় ।

প্রথমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা পাচার করে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র সরবরাহেও এই চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয়ত, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যারাই প্রকাশ্যে বা সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন — তাদের হুমকি, নির্যাতন বা হত্যার শিকার হতে হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম সেই তালিকারই সর্বশেষ নাম।

রাজনৈতিক মদদ: কবির আহমেদের ভূমিকা কী?

RDM News 24-এর অনুসন্ধানে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো — এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম আসছে কবির আহমেদের, যিনি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। অভিযোগ, এই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়াই সিন্ডিকেটটিকে এতদিন আইনের নাগালের বাইরে রেখেছে।

কারাগার থেকেও থামছে না অপরাধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে সক্রিয় ‘লায়ন শাকিল’ ও ‘আলভি গ্যাং’ এই নেটওয়ার্কের আরেকটি শাখা। লায়ন শাকিল বর্তমানে কারাবন্দি হলেও মাদক কারবার বিন্দুমাত্র থামেনি — জেলখানার ভেতর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে সমস্ত অপরাধমূলক কার্যক্রম। বাদশাহ জুয়েলকে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের বাদশাহ’ বলে ডাকা হয়, কারণ কারাগারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনও নাকি তার ইশারায় চলে।

প্রশাসনের নীরবতা কেন?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন — এত প্রকাশ্যে মাদক ও অস্ত্রের কারবার চললেও প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না? কেন দ্বীন ইসলাম হত্যার মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশকে নিয়মিত সুবিধা দিয়েই এই সিন্ডিকেট টিকে আছে।

দ্বীন ইসলামের মৃত্যু আজ একটি প্রতীক — সত্যের পথে চললে কী পরিণতি হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ। বিচার না হলে আরও অনেক দ্বীন ইসলাম তৈরি হবে, আরও অনেক কণ্ঠ চিরতরে থেমে যাবে।

ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ