শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: রায় ৭ জুন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
ঢাকা: ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার মামলার সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষ প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—উভয়েরই সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।
উভয়পক্ষের যুক্তিখণ্ডন ও শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ জেরা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তিনি আসামিদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পর সে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। আর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এই অপরাধ সংঘটনে এবং পরবর্তীতে আলামত ও তথ্য গোপনে তাকে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কলিমুল্লাহ যুক্তি দেখান যে, এই মামলার চার্জশিট মূলত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরির কোনো ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ার কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ঘটনার সময় সোহেল রানা মাদকাসক্ত ছিলেন দাবি করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান। স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি, তাই তাকে বড়জোর তথ্য গোপনের অপরাধে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
এর আগে, গতকাল বুধবার (৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহিদুজ্জামান এই মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।
আদালত প্রতিবেদক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ