মিঠাপুকুরে বিষাক্ত মদপানে প্রাণহানি বেড়ে ৫
মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল পানের পর অসুস্থ হয়ে পর্যায়ক্রমে ৫ জনের মৃত্যু; অনুসন্ধানে পুলিশ ও ডিএনসি।
ঢাকা: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল পানের ঘটনায় বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার দুলা মিয়া (৪৫) নামের ওই ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে মারা গেলে এই ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত রবিবার রাতে উপজেলার বালারহাট বাজার এলাকায় একটি চিহ্নিত মাদক চক্রের কাছ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল কিনে একসঙ্গে পান করেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আইনি জটিলতা ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিষয়টি গোপন রেখে বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন। তবে শরীরে বিষক্রিয়ার মাত্রা তীব্র হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং পর্যায়ক্রমে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাতেই। কাফ্রিখাল函数的 সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের ছাত্তার মিয়া (৬০) মদপানের পর নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বুজরুক ঝালাই গ্রামের হুজুর আলী (৪৫) এবং সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার সাজু মিয়া (৫৫)। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মঙ্গলবার এরশাদ আলী (৪০) নামে আরও একজন এবং সর্বশেষ বুধবার কুমোরপুর কন্তিবাড়ি গ্রামের দুলা মিয়া মারা যান।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ শিকদার আরডিএম নিউজ ২৪-কে জানান, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট এবং রাসায়নিক কারণ শতভাগ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক ল্যাবের ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) রংপুর কার্যালয়ের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, এই গণ-প্রাণহানির ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এই বিষাক্ত ও অবৈধ অ্যালকোহলের মূল উৎস কোথায় এবং এর পেছনে স্থানীয় ও আঞ্চলিক কোন চোরাকারবারি সিন্ডিকেট কাজ করছে, তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পুলিশ ও ডিএনসির একাধিক বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
মফস্বল প্রতিবেদক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ