মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কারণে দলের নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ নেই — সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়

admin

May 12, 2026

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার কারণে দলের নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ নেই — সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) এমন কোনো বিধান নেই, যার আওতায় মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করা যায়।

মামলার শুরু ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি, যখন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর নেতৃত্বে ২৫ জন আবেদনকারী জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, ১৯৭১ সালে দলটির নেতাদের ভূমিকার কারণে এটি দেশের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার অধিকার রাখে না।

হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় এবং ২০১৮ সালের অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন বাতিল করে দেয়। এরপর জামায়াত আপিল বিভাগে মামলা করে। চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুনানির সময় মূল আবেদনকারীদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

গত বছরের ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেয় এবং নির্বাচন কমিশনকে দলটির নিবন্ধন সংক্রান্ত সব বিষয় নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কমিশন পরবর্তীতে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল করে এবং দলটির ঐতিহ্যবাহী ‘দাঁড়িপাল্লা’ নির্বাচনী প্রতীক ফিরিয়ে দেয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আবেদনকারীদের যুক্তি আইনি নয়, বরং আবেগনির্ভর। রায়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়েও একটি ঐতিহাসিক প্রশাসনিক তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ‘দাঁড়িপাল্লা’ যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতীক, তাই নির্বাচন কমিশনকে এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ না দিতে অনুরোধ করা হবে। সে অনুযায়ী কমিশনে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল।

এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইতিহাস ও আইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি এখনো জীবন্ত — ন্যায়বিচার কি শুধু বইয়ের ধারায়, নাকি ইতিহাসের দায়ও তার অংশ?

ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ