ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো: পারফর্ম করবেন শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএস
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে যুক্ত হচ্ছে আমেরিকান ধাঁচের বিনোদন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে ‘হাফটাইম শো’ বা মধ্যবিরতির জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনালে মঞ্চ মাতাবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা, পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে।
তারকাদের মেলা ও ঐতিহাসিক পুনর্মিলন:
এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেওয়া তারকাদের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও অর্জন আকাশচুম্বী। পপ তারকা ম্যাডোনা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাতটি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন। অন্যদিকে, ল্যাটিন সেনসেশন শাকিরার ঝুলিতে রয়েছে চারটি গ্র্যামি। পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা শেষ করে দীর্ঘ চার বছর পর গত মার্চে পূর্ণ লাইনআপে একত্রিত হওয়া বিটিএস-এর অন্তর্ভুক্তি বিশ্বজুড়ে তরুণ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করেছে। বিটিএস প্রথম কে-পপ দল হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল। শাকিরার জন্য ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চ অবশ্য নতুন নয়, এর আগে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি পারফর্ম করেছিলেন এবং সম্প্রতি বার্না বয়ের সাথে এই টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’ প্রকাশ করেছেন।
পেছনের পরিকল্পনা ও প্রযোজনা:
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শোর পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘কোল্ডপ্লে’-এর প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন। তিনি এই আয়োজনের প্রধান কিউরেটর। পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে প্রযোজনা করবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মতো বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’। এর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের মধ্য দিয়ে এই হাফটাইম শোর একটি সফল পরীক্ষামূলক মহড়া সম্পন্ন করেছিল ফিফা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চমক:
ফাইনালে চমক দেওয়ার পাশাপাশি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে ফিফা। আগামী ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই (SoFi) স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অনিতা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।
ঐতিহ্য বনাম বিনোদনের বিতর্ক:
খেলাধুলার সাথে এই ধরনের সঙ্গীতানুষ্ঠানের মেলবন্ধন আমেরিকান দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় হলেও, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কট্টর ফুটবল সমর্থকদের মাঝে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণত সুপার বোলের মতো আমেরিকান ইভেন্টগুলোতে ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই হাফটাইম শো উপভোগ করেন। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ট্র্যাডিশনাল ফুটবল ভক্তরা খেলার আসল উত্তেজনাতেই বুঁদ থাকতে পছন্দ করেন।
ম্যানহাটনের নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক অধ্যাপক শন জ্যাকবস এই বিষয়ে বলেন, ফুটবল সংস্কৃতির ঐতিহ্য অনুযায়ী ১৫ মিনিটের মধ্যবিরতিকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয় এবং এর সাথে আপস করা ভক্তরা পছন্দ করেন না। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল প্রেমীদের খেলায় বুঁদ থাকার জন্য বাড়তি এই আমেরিকান বিনোদনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন অনেকেই। ফলে এই নতুন সংযোজন ঐতিহ্যবাহী ফুটবল সংস্কৃতির সাথে কতটুকু খাপ খাবে, তা নিয়ে মাঠ ও মাঠের বাইরে একটি সূক্ষ্ম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
খেলাধুলা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ