নিত্যপণ্যের উৎসে কর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা এনবিআরের: বাড়তে পারে চাল, ডাল ও তেলের দাম
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চাল, ডাল, তেল ও ফলসহ ২৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি ও খাদ্যপণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানের ০.৫০ শতাংশ কর হার বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার এই প্রস্তাবটি আসন্ন জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
প্রস্তাবিত পণ্যের তালিকা ও প্রক্রিয়া:
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই বর্ধিত করের তালিকায় চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্য তেল, চিনি এবং সব ধরনের ফলসহ মোট ২৮টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য একটি বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেলে এটি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কার্যকর হতে পারে।
মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ:
ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত তিন বছর ধরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে করের হার বাড়ানো হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু জানান, করের হার বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের সরবরাহ খরচ বেড়ে যাবে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বইতে হবে। তার মতে, এনবিআরের কাছ থেকে কর সমন্বয়ের টাকা ফেরত পাওয়া জটিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই করকে খরচ হিসেবে পণ্যমূল্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেন।
করপোরেট কমপ্লায়েন্স ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা:
বর্তমানে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য কেনে, তখন বিল পরিশোধের সময় তারা নির্ধারিত কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাদের মতো কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কর কর্তন করে থাকে এবং বাজেটে কর হার পরিবর্তন হলে তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। এনবিআরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই খাত থেকে কর হার বাড়ানো হলে বছরে ৫’শ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।
নীতিগত দ্বন্দ্ব ও সমালোচনা:
এনবিআরের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে কিছুটা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান ২০২৩ সালে আইসিএমএবি-র সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় নিত্যপণ্যকে উৎসে করের আওতার বাইরে রাখার সুপারিশ করেছিলেন। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন কর বাড়ানোর এই পরিকল্পনাকে অনেকেই নীতিগত বৈপরীত্য হিসেবে দেখছেন। সাবেক এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে যেখানে কর কমানো উচিত ছিল, সেখানে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
অর্থনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ
#RDMNews24 #NBRPakistan #EconomicNews #TaxIncrease #EssentialCommodities #BangladeshBudget #PriceHike #InflationUpdate #RevenueCollection #FinanceNews