জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ: শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জির সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

admin

May 14, 2026

জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ: শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জির সাথে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বুধবার (১৩ মে) মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এক সভায় তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জির সাথে কৌশলগত আলোচনা:
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন শেভরন-এর প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের লা রোসার সাথে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, শেভরন বর্তমানে বাংলাদেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে, যা দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্পকারখানা এবং কয়েক লাখ গৃহস্থালির চাহিদার প্রধান উৎস। এছাড়া রাষ্ট্রদূত এক্সিলারেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টিভেন কোবোসের সাথেও বৈঠক করেন। সেখানে মার্কিন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে এলএনজি (LNG) সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি অবকাঠামো আধুনিকায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির প্রতিশ্রুতি:
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী, পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি ২৫ জন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতার একটি প্রতিনিধি দলকে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘SelectUSA Investment Summit’-এ নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা:
জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারেও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে বৈঠক করে বিনিয়োগের বাধা দূর করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে ইউএস-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজার প্রবেশাধিকার সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান হওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অর্থনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ