দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কল্পনায় হারিয়ে যাচ্ছেন? হতে পারে মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত

admin

June 2, 2026

দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কল্পনায় হারিয়ে যাচ্ছেন? হতে পারে মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত

কখনও কখনও মানুষ কল্পনার জগতে হারিয়ে যায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই কল্পনার জগৎই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান বাস্তবতা। তারা দিনের বড় একটি সময় নিজের মনে গল্প, চরিত্র ও নানা কল্পিত ঘটনা তৈরি করে কাটান। বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে “ম্যালঅ্যাডাপটিভ ডে ড্রিমিং” বা অতিমাত্রায় কল্পনায় ডুবে থাকা বলে উল্লেখ করেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক কল্পনা মানুষের সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন মানুষ কল্পনার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বাস্তব জীবন থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে।
গবেষণায় জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে পারেন। শৈশবের একাকীত্ব, মানসিক আঘাত কিংবা সামাজিক চাপ অনেক সময় এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখে। বাস্তব জীবনের কষ্ট এড়াতে অনেকে কল্পনার জগতে আশ্রয় নেন।
এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় একা থাকতে পছন্দ করেন। গান শোনা বা একই ধরনের শারীরিক নড়াচড়া তাদের কল্পনাকে আরও গভীর করে তোলে। ফলে পড়াশোনা, চাকরি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এটি ধীরে ধীরে আসক্তির মতো রূপ নিতে পারে। কল্পনার জগৎ এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যে বাস্তব জীবনকে অনেকে ফিকে মনে করতে শুরু করেন। এতে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হতাশা ও অপরাধবোধ তৈরি হতে পারে।
তবে সচেতনতা ও সঠিক সহায়তার মাধ্যমে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—কল্পনায় কাটানো সময় পর্যবেক্ষণ করা, নতুন শখ গড়ে তোলা, দীর্ঘ সময় একা না থাকা এবং মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা করা।
অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও মানসিক চিকিৎসাও কার্যকর ভূমিকা রাখে। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য কল্পনাকে বন্ধ করা নয়, বরং বাস্তব জীবনের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করা।
মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, কল্পনা নিজে কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন কল্পনা বাস্তব জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

RDM News প্রতিনিধি

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ