ট্রাম্পের চুক্তিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে রাজি ইরান, দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের
আন্তর্জাতিক ও কূটনীতি ডেস্ক, RDM News 24
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে যাচ্ছে ইরান। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তেহরান তাদের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দুজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা।
তবে ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে মুখ খোলেনি।
চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন জটিলতা
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ঠিক কীভাবে এই ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর বা ধ্বংস করবে, তার কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা এই প্রাথমিক প্রস্তাবে নেই। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী দফার আলোচনার জন্যই এই বিস্তারিত রূপরেখাটি তুলে রাখা হয়েছে।
তবে প্রথম ধাপে ইরান এই মজুত ছাড়তে রাজি হওয়াকেই মার্কিন কূটনীতির বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রধান লক্ষ্য ছিল। ইরান প্রথমে এই শর্তটি আলোচনার দ্বিতীয় ধাপে রাখার দাবি জানালেও মার্কিন আলোচকেরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—প্রাথমিক পর্যায়ে ইউরেনিয়াম নিয়ে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ছেড়ে দেবে এবং পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে।
নেপথ্যে মার্কিন ‘বাঙ্কার-বাস্টিং’ বোমার হুমকি
কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের ওপর বড় teaspoons সামরিক মনস্তাত্ত্বিক চাপও তৈরি করেছিল পেন্টাগন। মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা সম্প্রতি ট্রাম্পের সামনে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত লক্ষ্য করে ‘বাঙ্কার-বাস্টিং’ (মাটির গভীরের স্থাপনা ধ্বংসকারী) বোমা হামলার বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা পেশ করেন।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে, যার বেশিরভাগই ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় মাটির নিচে রয়েছে। গত জুনে এই স্থাপনায় মার্কিন টোমাহক মিসাইল আঘাত হানার পর এগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ে। গত গ্রীষ্মে ট্রাম্প এই মজুত উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ কমান্ডো অভিযানের কথাও বিবেচনা করেছিলেন, কিন্তু প্রাণহানির ঝুঁকিতে তা বাতিল করা হয়। এই সামরিক হুমকির মুখেই মূলত ইরান ইউরেনিয়াম ত্যাগের শর্ত মেনে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ও অবরুদ্ধ ইরানি ফান্ড
২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে হওয়া পরমাণু চুক্তির আদলে এবারও ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে পারে অথবা এর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে সাধারণ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে। তবে আগামী কয়েক মাসের আলোচনা মূলত এই সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েই আবর্তিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ২০ বছরের জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত চায়, সেখানে ইরান এই সময়সীমা অনেক কম রাখার পক্ষে।
Commercial শর্তের মূল অংশই হলো বিদেশে আটকে থাকা ইরানের শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তিতে পূর্ণ সম্মত হওয়ার পরেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গড়া একটি পুনর্গঠন তহবিল থেকে এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাবে ইরান। মূলত ইরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতেই ওয়াশিংটন এই কৌশলগত অর্থনৈতিক চাল চেলেছে।
আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক | RDM News 24 | ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র