চট্টগ্রামে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প। ভাঙার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে আনা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ এখন বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে। জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এটি আর ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন।
শিল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জাহাজটি কেনার পর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জানতে পারে এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। বিষয়টি আগে জানা থাকলে জাহাজটি কেনা হতো না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করা ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি একটি বড় আকারের রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার। এটি ভাঙার জন্য বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কিছুদিন পরই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছিল। একই সঙ্গে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার ‘মেমেই’ জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জাহাজটির স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে এখন এটি ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতা এড়াতে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জাহাজটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের পারকি সৈকতের অদূরে নোঙর করে রয়েছে।
#RDM_News_প্রতিনিধি