ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির, ইহুদি সংগঠনগুলোর তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা

admin

May 23, 2026

ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির, ইহুদি সংগঠনগুলোর তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ও রাজনীতি ডেস্ক, RDM News 24
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: দীর্ঘ ছয় দশকের ঐতিহ্য ভেঙে নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহাসিক ‘ইসরায়েল ডে প্যারেড’ বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। ১৯৬৪ সালে এই প্যারেড শুরু হওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রানিং মেয়র এই অনুষ্ঠান বর্জন করলেন। মেয়রের এমন সিদ্ধান্তে আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদি-বিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে এবং সিনাগগসহ বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠানের সামনে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাস এই নিউইয়র্ক সিটিতে।

ইহুদি সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান বয়কট ও ক্ষোভ
মেয়র মামদানির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) নিউইয়র্কের দুটি শীর্ষস্থানীয় ইহুদি সংগঠন—‘ইউজেএ-ফেডারেশন অব নিউইয়র্ক’ এবং ‘জিউইশ কমিউনিটি রিলেশনস কাউন্সিল অব নিউইয়র্ক’ মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে আয়োজিত একটি ঐতিহ্যবাহী ইহুদি হেরিটেজ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের আমলে গঠিত ‘ইহুদি-বিদ্বেষ প্রতিরোধ সেলের’ সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোশে ডেভিস ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, “১৯৬৪ সালের প্রথম প্যারেড থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের প্রতিটি মেয়র এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন। এই প্যারেড বর্জন করা নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসের প্রতি এক ধরণের অবমাননা।”

রাজনৈতিক আদর্শের দোহাই ও মেয়র মামদানির সাফাই
আগামী ৩১ মে এই ঐতিহাসিক প্যারেডটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মেয়র মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারেডে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অবশ্য গত বছরের অক্টোবরেই ‘জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নিজের রাজনৈতিক আদর্শের কারণে তিনি সিটির কিছু ঐতিহ্যবাহী প্যারেড এড়িয়ে চলবেন।

সমালোচনার জবাবে মেয়র মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমার অনুপস্থিতিকে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি বিরোধিতা বা প্যারেডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমি নিউইয়র্কের ইহুদি জীবনযাত্রা এবং এর সমৃদ্ধ ইতিহাস উদযাপন সংক্রান্ত অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উন্মুখ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বিশ্বের সর্বত্র সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করি। এই নীতিটিই আমাকে পরিচালনা করে।”

সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রতিক্রিয়া
সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসও এই প্যারেডের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ইসরায়েল ডে প্যারেড নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রমাণ। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন—সব ক্ষেত্রে ইসরায়েল এবং নিউইয়র্ক সিটি অংশীদার।”

বিতর্কের মুখে মেয়র মামদানি সিটিতে ইহুদিদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ ইহুদি হলেও, বর্তমানে মোট বর্ণবাদী বা ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের (হেট ক্রাইম) ৫০ শতাংশেরই শিকার হচ্ছেন তারা। এই অপরাধ দমনে তিনি বার্ষিক ২৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

মুসলিমদের অংশগ্রহণ ও নতুন মোড়
এদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেয়রের অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের কারণে এবার প্যারেডে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৬১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কিছু মুসলিম সংগঠন ও এশিয়ান-আমেরিকান গ্রুপ ইহুদি সংগঠনগুলোর সাথে এই প্যারেডে একসাথে মার্চ করবে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক ও কূটনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ