বাংলাদেশকে গ্লোবাল সোর্সিং হাব বানাতে চায় আলিবাবা

admin

June 6, 2026

বাংলাদেশকে গ্লোবাল সোর্সিং হাব বানাতে চায় আলিবাবা

১৯০ দেশের ক্রেতাদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন দেশীয় রপ্তানিকারকরা; ৩ বছরে ১ হাজার উদ্যোক্তাকে বৈশ্বিক বাজারে নেওয়ার মেগা প্ল্যান।

বাণিজ্য ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকা: সাধারণ মানুষের কাছে আলিবাবা গ্রুপ একটি খুচরা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত হলেও, বাংলাদেশে কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বড় কৌশল নিয়ে কাজ করছে। স্থানীয় গ্রাহকদের সাধারণ কেনাকাটার সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে, আলিবাবা তার বৈশ্বিক বি-টু-বি (B2B) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি কারখানা ও সরবরাহকারীদের বিশ্বজুড়ে ১৯০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করছে। আলিবাবা ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশ মূলত আলিবাবা ডটকমের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বৈশ্বিক ‘সোর্সিং হাব’। গত বছর এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি সরবরাহকারীরা তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি করে প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ১২০ কোটি টাকা) ব্যবসা করেছে।

বর্তমানে আলিবাবা ডটকম বাংলাদেশে চারটি স্থানীয় চ্যানেল পার্টনার—ট্রেডশি, মেইদাও, স্কাইটেক এবং ম্যাক্সিমো-এর মাধ্যমে ৩০০-এরও বেশি দেশীয় সরবরাহকারীর সঙ্গে কাজ করছে। প্রচলিত ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসের মতো বাংলাদেশে আলিবাবার কোনো নিজস্ব গুদাম, লজিস্টিক বা ডেলিভারি নেটওয়ার্ক নেই। আলিবাবা ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র চ্যানেল অপারেশন স্পেশালিস্ট ওয়াং কুইলিং ভ্যানিয়া জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসাটি ‘প্ল্যাটফর্ম-প্লাস-লোকাল-পার্টনার’ মডেলে চলে, যেখানে আলিবাবা বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম দেয় এবং স্থানীয় পার্টনাররা রপ্তানিকারকদের অনবোর্ডিং ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক অনলাইন স্টোরফ্রন্ট তৈরি, আরএফকিউ (RFQ) সিস্টেমে বিড করা এবং অনলাইন বিক্রয় কৌশলের ওপর উন্নত প্রযুক্তিগত সুবিধা পাচ্ছেন। ব্যবসা ও নীতিনির্ধারকদের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদারে শীঘ্রই ঢাকায় একটি ছোট প্রতিনিধি অফিস খোলার পরিকল্পনাও করছে বহুজাতিক এই কোম্পানিটি।

তবে বাংলাদেশে বি-টু-বি ই-এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে এখনও কিছু বড় প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। আলিবাবা ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ বিষয়ক ডোমেস্টিক চ্যানেল ম্যানেজার সোনোবার মাইরা জানান, ভিয়েতনাম ও ভারতে এই খাতের প্রবেশ হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও বাংলাদেশে তা এখনও ১৫ শতাংশের নিচে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি জটিল বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বিধি এবং সেকেলে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দায়ী করেন, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ছোট রপ্তানি লেনদেনে বড় সমস্যা তৈরি করছে। এই পেমেন্ট সংকট ও সেটেলমেন্ট বিলম্ব কাটাতে আলিবাবা বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং জায়ান্ট ‘বিকাশ’সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি স্থানীয় পেমেন্ট সমাধানের পাইলট প্রকল্প চালাচ্ছে। আগামী তিন বছরে ১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি রপ্তানিকারককে বৈশ্বিক বাজারে ডিজিটালি সক্রিয় করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আলিবাবা। তবে গ্লোবাল ডিজিটাল বাণিজ্যের পূর্ণ সুবিধা নিতে বাংলাদেশকে দ্রুততর বৈদেশিক মুদ্রা অনুমোদন এবং স্পষ্ট ডিজিটাল বাণিজ্য বিধিমালা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ