২০৩০ সালের মধ্যে ১৩০ কোটি মানুষের সমান পানি গ্রাস করবে এআই ডাটা সেন্টার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তির জয়জয়কার ও দ্রুত প্রসারের পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট। এআই প্রযুক্তির বিশাল কর্মযজ্ঞ সচল রাখতে বিশ্বজুড়ে দ্রুত গতিতে গড়ে উঠছে একের পর এক বিশালাকার ডাটা সেন্টার। আর এই ডাটা সেন্টারগুলোর মাত্রাতিরিক্ত পানি ও বিদ্যুৎ গ্রাস করার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মারাত্মক সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই এআই-চালিত ডাটা সেন্টারগুলোর পানির ব্যবহার বিশ্বের ১৩০ কোটি মানুষের বার্ষিক অভ্যন্তরীণ চাহিদার সমান স্তরে পৌঁছাতে পারে।
জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ’ (UNU-INWEH)-এর এই নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়, তীব্র গরম বা উষ্ণ জলবায়ুর অঞ্চলে সার্ভারগুলোকে অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে অত্যন্ত পানি-নিবিড় কুলিং বা শীতলীকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয় ডাটা সেন্টারগুলোকে। পানির এই বিশাল অপচয় ও ব্যবহার ইতিমধ্যেই জলসংকটে থাকা অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টারগুলোর প্রক্ষেপিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাথে যুক্ত পানির বৈশ্বিক পদচিহ্ন (Water Footprint) ৯.৩ ট্রিলিয়ন লিটারে পৌঁছাতে পারে, যা সমগ্র সাব-সাহারান আফ্রিকার জনসংখ্যার ন্যূনতম বার্ষিক পারিবারিক পানির চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পূর্ণ যথেষ্ট।
শুধু পানিই নয়, বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি এক সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টারগুলো বার্ষিক ৯৪৫ টেরাওয়াট-আওয়ার (TWh) বিদ্যুৎ গ্রাস করবে। এই পরিমাণটি বর্তমান ব্যবহারের অর্ধেকেরও বেশি এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার সম্মিলিত বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় তিন গুণ!
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ডাটা সেন্টারগুলো আনুমানিক ৪৪৮ টেরাওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডাটা সেন্টার খাতটিকে যদি একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিক থেকে এটি বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম দেশে পরিণত হবে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৫ সালে এই খাতের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ দিয়ে সমগ্র সাব-সাহারান আফ্রিকার ১৩০ কোটি মানুষের টানা ২.৬ বছরের আবাসিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো। এআই প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত খেসারত ঠেকাতে এখনই টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্ব বিশেষজ্ঞরা।
RDM News 24 | ঢাকা