১ টাকায় গালি, ৩ টাকায় কমেন্ট — বাংলাদেশে সরগরম ‘বট সার্ভিস’ বাজার, রাজনৈতিক দলও নিচ্ছে সেবা
ফেসবুকে হঠাৎ হাজারো ‘হা হা’ ইমোজি, অল্প সময়ের মধ্যে একই বাক্যের শত শত মন্তব্য — এগুলো শুধু আপনার মনে হওয়া নয়। বাংলাদেশে এখন রমরমা ব্যবসা চলছে বট ও পেইড কমেন্ট সার্ভিসের। মাত্র ১ টাকায় একটি মন্তব্য, ৩ টাকায় নেতিবাচক গালি, ৭০ টাকায় ১ হাজার লাইক — এভাবেই বিকিকিনি হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের মতামত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে অন্তত ২৫টি পেজ ও সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টাকার বিনিময়ে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ফলোয়ার ও রিভিউ দিয়ে থাকে। ‘Grow Plus’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ‘হিডেন’ ফলোয়ার মাত্র ৪০ টাকায়, বাংলাদেশি ফলোয়ার ১৭০ টাকায় এবং ১ হাজার পোস্ট লাইক ৭০ টাকায় দিচ্ছে। ‘Solutions Point’ দিচ্ছে ১০ লাখ কমেন্ট মাত্র ৩৮ হাজার টাকায়।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো রাজনৈতিক ব্যবহার। Solutions Point-এর একজন কর্মী জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তারা দুটি রাজনৈতিক দলকে বট সার্ভিস দিয়েছেন। কোন দল, তা জানাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং করাতে বা বিরোধী পক্ষের পোস্ট গণ-রিপোর্টিং দিয়ে নামিয়ে দিতে এসব বট ব্যবহার হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থনে ১ হাজার ৩৬৯টি ফেসবুক প্রোফাইলের একটি বট নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। এই নেটওয়ার্ক ২১ হাজারের বেশি মন্তব্য পোস্ট করেছিল। সেই বট আইডিগুলোর ৭৭ শতাংশ ছিল নারীদের নামে।
ডাকসু নির্বাচনে দেখা গেছে, একটি পোস্টে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে শত শত অ্যাকাউন্ট থেকে একই বাক্যে মন্তব্য আসতে শুরু করে — যাদের বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। আবার সাংবাদিক রাজীব আহাম্মদের একটি পোস্টে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আড়াই হাজারের বেশি ‘হা হা’ রিঅ্যাকশনের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি এসেছে ভিয়েতনামি নাম ও শূন্য ফলোয়ারের প্রোফাইল থেকে।
ফ্যাক্টওয়াচের সহকারী সম্পাদক শুভাশীষ দীপ বলেন, ফেসবুকের অ্যালগরিদম একটি পোস্টে বেশি কমেন্ট দেখলে সেটিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। মেটা স্বয়ংক্রিয় বট শনাক্তে মোটামুটি ভালো হলেও সমন্বিত মানব-পরিচালিত অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা এখনো কঠিন।
গবেষকরা বলছেন, এই বট নেটওয়ার্ক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সঠিক তথ্যব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ভিন্নমত দমন, মিথ্যা প্রচারণা ছড়ানো এবং জনমত বিকৃত করার হাতিয়ার হয়ে উঠছে এই প্রযুক্তি।
ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ