হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানো ব্যক্তি নিহত: নিজেকে দাবি করতেন ‘যিশুখ্রিস্ট’
আন্তর্জাতিক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডেস্ক, RDM News 24
ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র: ২৪ মে ২০২৬: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরের একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় চালানো এই হামলায় নাস্যায়ার বেস্ট (২১) নামে এক তরুণ বন্দুকধারী সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহত ওই তরুণ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং নিজেকে ‘যিশুখ্রিস্ট’ বলে দাবি করতেন।
চেকপয়েন্টে অতর্কিত হামলা ও পাল্টা গুলি
দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হোয়াইট হাউসের ১৭ নম্বর নর্থওয়েস্ট স্ট্রিটের কাছে সন্দেহভাজনভাবে পায়চারি করছিলেন বেস্ট। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে আচমকা গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মাত্র কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পরপরই সেখানে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিসের ফেডারেল কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই বেস্ট নিহত হন। তবে এই গোলাগুলির ঘটনায় এক সাধারণ পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
মানসিক অসুস্থতা ও অপরাধের ইতিহাস
হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, বেস্টের দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতা ও অপরাধের ইতিহাস ছিল। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন প্রবেশপথের চারপাশে প্রায়ই ঘোরাঘুরি করার কারণে সিক্রেট সার্ভিসের কাছে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। এর আগে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞাও অমান্য করেছিলেন তিনি।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, গত ২৬ জুন যান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বেস্টকে একটি মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। এরপর ১০ জুলাই বেআইনিভাবে সরকারি প্রাঙ্গণে প্রবেশের অভিযোগে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। তৎকালীন আদালতের নথিতে উল্লেখ ছিল, বেস্ট নিজেকে ‘যিশুখ্রিস্ট’ বলে দাবি করেছিলেন এবং নিজেই পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হতে চেয়েছিলেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিস যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে।
হোয়াইট হাউসে তীব্র আতঙ্ক ও লকডাউন
গোলাগুলির আকস্মিক শব্দে হোয়াইট হাউসে কর্মরত সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবিসির সিনিয়র হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট সেলিনা ওয়াং জানান, “আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লন থেকে ভিডিও রেকর্ড করার সময় ডজনখানেক গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমাদের তাৎক্ষণিক দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে চলে যেতে বলা হয়।” ঘটনার পরপরই সিক্রেট সার্ভিস পুরো হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আধা ঘণ্টা পর এই লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে বসে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে কাজ করার বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।
নেতাদের নিন্দা ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর মার্কিন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বেটি ম্যাককলামসহ উভয় দলের শীর্ষ নেতারা এই রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “এই ব্যক্তির সহিংস ইতিহাস ছিল এবং সে আমাদের দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রতি বাতিকগ্রস্ত ছিল। হোয়াইট হাউস করসপনডেন্টস ডিনারে গোলাগুলির মাত্র এক মাস পরই এই ঘটনা ঘটল। এটি প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতের সব প্রেসিডেন্টের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা তৈরি করা কতটা জরুরি।” উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ায় একটি নির্বাচনী সমাবেশেও ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | RDM News 24 | ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র