বাংলাদেশকে ডেডিকেটেড ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তর গঠনের তাগিদ এডিবির

admin

May 24, 2026

বাংলাদেশকে ডেডিকেটেড ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তর গঠনের তাগিদ এডিবির

অর্থনীতি ও রাজস্ব প্রতিবেদক, RDM News 24
ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: বাংলাদেশের পাবলিক ডেট বা সরকারি ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে মোট জিডিপির ৪১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণের ওপর যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে দেশে একটি পৃথক ও বিশেষায়িত ‘ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তর’ (Dedicated Debt Management Office) প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

গতকাল ২৩ মে (শনিবার) প্রকাশিত এডিবির এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ (গ্রাজুয়েশন) হতে যাচ্ছে। এর আগেই দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্র বা ফিসকাল স্পেস সংকুচিত হয়ে আসছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সংগঠিত নয় ঋণ ব্যবস্থাপনা, তথ্যে ঘাটতি
‘বাংলাদেশের সুশাসন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক ফিসকাল সক্ষমতা, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সংস্কারের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত খণ্ডিত বা ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় রয়েছে। ঋণের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভিন্ন ভিন্নভাবে থাকায় তা এক জায়গায় পাওয়া যায় না। এছাড়া মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি এবং এ সংক্রান্ত পাবলিক রিপোর্টিং বা জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের হারও বেশ অপর্যাপ্ত।

এই সংকট নিরসনে এডিবি দেশের সব ধরনের ঋণের ডেটাবেজকে একীভূত করার তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে সমস্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে একটি একক ডেডিকেটেড দপ্তরের অধীনে আনার সুপারিশ করেছে, যার মূল কাজ হবে দেশের সার্বিক ঋণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পরিচালনা করা এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

এলডিসি পরবর্তী সম্ভাব্য বড় সংকট
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের নিম্নহার, বৈদেশিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা এবং সংকুচিত হতে থাকা ফিসকাল বা পলিসি স্পেস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এডিবি সতর্ক করেছে যে, এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা ও সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগগুলো হারাবে। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং একটি শক্তিশালী ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো না থাকলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। একই সাথে নীতিগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বাজেট ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেছে এডিবি। সংস্থাটি জানায়, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (iBAS++) চালুর ফলে দেশে বাজেট বাস্তবায়নের হার আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পাবলিক সেক্টর অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (IPSAS) গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি ক্রয় কাঠামো বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কও আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।

অর্থনীতি ও রাজস্ব ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ