পানীয় ও চিনিযুক্ত পণ্যের ন্যূনতম কর কমে ২.৫% হতে পারে, আসছে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা
অর্থনীতি ও রাজস্ব প্রতিবেদক, RDM News 24
ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাড়তি চিনিযুক্ত খাদ্য ও পানীয় পণ্যের টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম করহার ৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ২.৫ শতাংশ করা হতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে আগামী বাজেটে বেশিরভাগ করদাতার জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত’ বা অটোমেটিক ট্যাক্স রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি বনাম জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল যে, এই খাতে যে হারে মুনাফা হয়, তার তুলনায় ন্যূনতম করের হার অনেক বেশি। ফলে লোকসান বা কম মুনাফা হলেও বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিতে গিয়ে করের প্রকৃত বোঝা ৪৩ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকছে। তবে শিল্প খাতের এই কর কমানোর উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ রুমানা হক বলেন, “জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে চিনিযুক্ত পণ্যের কর কমানো উচিত হবে না। মাত্রাতিরিক্ত চিনিযুক্ত পণ্য ভোগের কারণে দেশে তরুণদের মধ্যেও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সরকারের কেবল রাজস্ব নয়, জনস্বাস্থ্যও বিবেচনায় নিতে হবে।” সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশে নারীদের মধ্যে স্থূলতা প্রায় ৩ গুণ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ১.৫ গুণ বেড়েছে। এছাড়া ডায়াবেটিসের প্রকোপ ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
উচ্চ করহারের কারণে কার্বনেটেড কোমল পানীয়ের বাজার ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোকা-কোলা সিসিআই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান জানান, উচ্চ করহার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও বিনিয়োগের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করায় তারা ইতিমধ্যে বিনিয়োগ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।
হয়রানি রুখতে আসছে স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা
এদিকে করদাতাদের জন্য একটি বড় সুখবর দিচ্ছে এনবিআর। প্রতি বছর দেশে প্রায় ১.৫০ লাখ কোটি টাকা আয়কর আদায় হলেও করদাতারা রিফান্ড বা বাড়তি করের টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ বিলম্ব ও নানা জটিলতার শিকার হন। বছরে মোট রিফান্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা।
এই জটিলতা নিরসনে আগামী বাজেটে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোম্পানি ও ব্যক্তিগত উভয় করদাতার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। নতুন এই নিয়মে, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনো করদাতা যদি রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হন, তবে তাকে আর আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না। এনবিআর নিজেই যোগ্যতা যাচাই করে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সেই অর্থ সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে জমা করে দেবে। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়াকরণের সময় আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
অর্থনীতি ও রাজস্ব ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ