পুরোনো ঋণ চুক্তি বাতিল করছে সরকার, আইএমএফের কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রস্তাব
অর্থনৈতিক ডেস্ক, RDM News 24
ঢাকা, বাংলাদেশ: পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে করা বিদ্যমান ঋণ চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। চলমান তারল্য সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকার আইএমএফের কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ পাওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই কৌশলগত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন দলের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যমান চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতির কারণেই বর্তমান সরকার এই নতুন পথে হাঁটছে।
আইএমএফের সাথে মতপার্থক্য ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জ
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করেছিল, যা পরবর্তীতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এর মধ্যে ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাকি ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
নতুন সরকার ও আইএমএফের মধ্যে প্রধান বিরোধের জায়গাগুলো হলো রাজস্ব ও আর্থিক খাতের আমূল সংস্কার। আইএমএফ ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার বাস্তবায়ন, কর ছাড় কমিয়ে আনা, বিদ্যুৎ ও সারের ওপর সর্বজনীন ভর্তুকি প্রত্যাহার করে লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে তারা জনস্বার্থবিরোধী বা দলীয় ইশতেহারের বিপরীত কোনো কঠোর শর্ত মেনে নিতে পারে না।
এছাড়া সম্প্রতি ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে আনা সংশোধনী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের সরকারি উদ্যোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সরকারের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আইএমএফ এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কঠোর আইন প্রণয়নের চাপ দিলেও সরকার তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে।
নতুন প্যাকেজের সম্ভাবনা
নতুন এই ঋণ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের সাথে সক্রিয় কর্মসূচি থাকাটা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনীতির পূর্বাভাস ও স্বচ্ছতার একটি ‘ইনস্টিটিউশনাল সিল’ হিসেবে কাজ করে। সরকার আগামী বছরগুলোতে বাজেটের বড় বড় ব্যয় ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বাহ্যিক বাজেট সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছে।
আইএমএফ থেকে নতুন করে বছরে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করা গেলে তা বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য সংস্থার বাজেট সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম করবে। সূত্র জানিয়েছে, নতুন ঋণ প্যাকেজের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্তাবলি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্ট মাসে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করবে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আইএমএফের সাথে কার্যকর অংশীদারত্ব বজায় রাখা জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
অর্থ ও করপোরেট ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ