বাস্তবমুখী লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবলের দায়িত্বে থমাস ডুলি
স্পোর্টস ডেস্ক, RDM News 24
ঢাকা, বাংলাদেশ: দীর্ঘ গুঞ্জন, ক্ষোভ আর ক্রিস কোলম্যানকে ঘিরে চলা নাটকীয়তার পর অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থমাস ডুলি। শুক্রবার (২২ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার পরপরই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আনুষ্ঠানিকভাবে এই জার্মান-আমেরিকান কোচের নাম ঘোষণা করে। আগামী ৫ জুন ইউরোপীয় দল সান ম্যারিনোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে দুই বছরের চুক্তিতে এই দায়িত্ব নিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ।
কোচ নিয়োগে বাফুফের গোপনীয়তা ও কোলম্যান-বিতর্ক
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন কোচ নিয়োগ নিয়ে বাফুফে এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ চলছিল। ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের সাথে বাফুফের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে এজেন্ট ফি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপরই সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত গড়ায়। তবে সব জল্পনা-কল্পনা ও সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে বাফুফে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে থমাস ডুলির নিয়োগ চূড়ান্ত করে। গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে হঠাৎ পদত্যাগ করে ডুলি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর পরই বাফুফে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে।
থমাস ডুলির নতুন ও বাস্তবমুখী বার্তা
দায়িত্ব গ্রহণের পর ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তার সর্বশেষ বিবৃতিতে ডুলি সমর্থকদের ক্ষোভ ও আবেগের বিষয়টি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সামাল দিয়েছেন। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কোনো অলীক স্বপ্ন বা রাতারাতি জাদুর আশা না দেখিয়ে তিনি অত্যন্ত বাস্তবমুখী লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে ডুলি বলেন, “আমি জানি বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা কতটা আবেগপ্রবণ এবং ফুটবল নিয়ে তাদের উন্মাদনা কতটা তীব্র। তবে আমি শুরুতেই কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না বা রাতারাতি কোনো ট্রফি জয়ের কথা বলবো না। আমার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো দলের কাঠামোগত উন্নতি করা এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ফিফা র্যাংকিং ১৫০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে নিয়ে আসা।”
তিনি দলের টেকনিক্যাল দিক নিয়ে আরও বলেন, “আমার কাজ হবে মাঠের খেলায় পরিবর্তন আনা। আমি এখানে এসেছি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে। ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা, খেলোয়াড়দের ফিটনেস বৃদ্ধি এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে আমার মূল কাজ। আমি সবার কাছে এখনই অন্ধ সমর্থন চাইবো না; আমাকে এবং আমার খেলোয়াড়দের কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দিন।”
বিভক্ত ফ্যানবেজ ও নতুন আশার সঞ্চার
ডুলির নিয়োগের পর দেশের ফুটবল ফ্যানবেজ এখনও কিছুটা বিভক্ত থাকলেও তার এমন বাস্তবমুখী, পরিণত ও অকপট বক্তব্যে অনেকেই আশার আলো দেখছেন। ফিলিপাইন জাতীয় দলকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে অপরাজিত হিসেবে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাংকিংয়ে পৌঁছানোর পেছনের প্রধান কারিগর ছিলেন এই ডুলি। এছাড়া অতি সম্প্রতি গায়ানার কোচ হিসেবেও নিজের শেষ ৪ ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছেন তিনি।
সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, খেলোয়াড়ি জীবনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করা এবং ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডুলির এই ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে দারুণ সহায়ক হবে।
সামনের কঠিন পথ
আগামী ৫ জুন সান ম্যারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে থমাস ডুলির বাংলাদেশ অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন এই কোচের সামনে এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ—মাঠের খেলায় ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন আনার পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিশাল মানসিক চাপ ও সমর্থকদের প্রত্যাশার পাহাড় সামলানো। বাফুফেকেও এখন নিশ্চিত করতে হবে যে তারা নতুন কোচকে তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করার পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে। থমাস ডুলি কি পারবেন তার বাস্তবমুখী দর্শন দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা রইল।
ক্রীড়া ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ