হামলার শিকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, পুলিশি পাহারায় মাগুরা পার হয়ে ঢাকায়
ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় ডিম নিক্ষেপ ও বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই হামলার জেরে ঢাকার পথে ফেরার সময় পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলাতেও তাঁর ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মাগুরা জেলা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারায় বিক্ষুব্ধ এলাকা নিরাপদে অতিক্রম করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে) রাত প্রায় ১১টার দিকে মাগুরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর ঝিনাইদহ থেকে মাগুরা হয়ে ঢাকার মহাসড়কে উঠবে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মাগুরার ভায়নার মোড়, ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড, পারনান্দুয়ালীসহ প্রধান প্রধান পয়েন্টে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীসহ শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয়। তবে দীর্ঘ সময় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করলেও জেলা পুলিশের কড়া বেষ্টনী ও সশস্ত্র পাহারার কারণে এনসিপির গাড়িবহরটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মাগুরা শহর পার হয়ে যায়।
ঝিনাইদহে অতর্কিত হামলা, আহত ৭
এর আগে একই দিন দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষ করে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে উশৃঙ্খল জনতা তাঁর ওপর লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে পুরো এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অক্ষত থাকলেও তাঁর সফরসঙ্গী এনসিপি নেতা তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হন।
ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাসহ ১২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হামলার ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় স্থানীয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান ৮ জন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তাদের ওপর ঘুষি, ইটপাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর মাগুরা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের জটলা তৈরি হয়েছিল। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে তাকে পুলিশি পাহারায় নিরাপদে মাগুরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পূর্ণ সহায়তা দিয়েছি। মাগুরা অংশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।”
ঝিনাইদহ ও মাগুরার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে দুই জেলাসহ ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই রুটে পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
জাতীয় ও রাজনৈতিক ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ