রাজশাহীর ৩টি পরিত্যক্ত সরকারি কলকারখানা চালু করল প্রাণ-আরএফএল, ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

admin

May 20, 2026

রাজশাহীর ৩টি পরিত্যক্ত সরকারি কলকারখানা চালু করল প্রাণ-আরএফএল, ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ও বন্ধ হয়ে থাকা রাজশাহীর তিনটি সরকারি কলকারখানাকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে পুনরুজ্জীবিত করেছে প্রাণ-আরএফএল (PRAN-RFL) গ্রুপ। এই কারখানাগুলোকে এখন রফতানিমুখী পাদুকা (ফুটওয়্যার), লাগেজ, তাঁবু এবং ছাতা তৈরির কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকার অদূরে সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চার বছর কাজ করার পর ২০২৪ সালে রাজশাহীর বাড়িতে ফিরে আসেন ২৪ বছর বয়সী সানজিদা আক্তার। পরিবার থেকে দূরে থেকে সন্তান লালনপালন ও কারখানার কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন তার কর্মজীবন হয়তো শেষ। কিন্তু প্রাণ-আরএফএলের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু হলে তার সেই হতাশা দূর হয়। বর্তমানে তিনি বানেশ্বরে নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরের একটি পাদুকা কারখানায় কাজ করছেন। শুধু সানজিদাই নন, তার মতো স্বপ্ন খাতুন (৩০) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সম্পন্ন করা সুলতানা খাতুনের (২২) মতো অনেক নারীই এখন নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পেয়ে ঢাকা বা গাজীপুরমুখী হওয়ার প্রবণতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

পরিত্যক্ত মিল থেকে রফতানিমুখী কারখানা
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী টেক্সটাইল মিলটি ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০০৩ সাল থেকে বন্ধ ছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় পর প্রাণ-আরএফএল-এর বিনিয়োগে এটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বর্তমানে এই কারখানায় প্রায় ২,৫০০ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী।

ফুটওয়্যার ও লাগেজে বড় বিনিয়োগ
পাদুকা ও লাগেজ উৎপাদনে গত দুই বছরে প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে প্রাণ-আরএফএল। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চলতি বছর আরও ২০০ কোটি এবং আগামী তিন বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৪৮ লাখ জোড়া জুতো উৎপাদন হচ্ছে, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে ১.৫ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১.১৯ বিলিয়ন ডলারের পাদুকা রফতানি করেছে। এর মধ্যে নন-লেদার বা চামড়াবিহীন পাদুকা খাত থেকেই এসেছে ৫২২ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রচুর ক্রয়াদেশ পাচ্ছি। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণে বিলম্ব হলে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বন্ধ কারখানাগুলো চালুর মাধ্যমে আমরা দ্রুত সমাধান পাচ্ছি এবং একইসাথে ঢাকার বাইরে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছি।”

পরিত্যক্ত জুট মিলে তৈরি হচ্ছে তাঁবু ও ছাতা
প্রায় ১৪ বছর ধরে বন্ধ থাকা রাজশাহী জুট মিলটিও চলতি বছরের শুরুতে ৩৫ বছরের পিপিপি চুক্তির আওতায় লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল। বর্তমানে এখানকার পুরনো শেডগুলোতে প্রায় ১,৫০০ শ্রমিক বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের জন্য রফতানিমুখী তাঁবু ও ছাতা তৈরি করছেন। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ছাতা উৎপাদিত হচ্ছে, যা ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ফুটওয়্যার ও লেদার গুডস বিভাগের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রাহাত হোসেন রনি জানান, ৩৫ একর জমিতে পুরনো সরকারি ভবনগুলো পুরোপুরি ব্যবহারের পর নিজস্ব অর্থায়নে আরও দুটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে শুধু এই একটি কারখানাতেই ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।”

তবে গ্রামীণ পর্যায়ে দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং চীন থেকে ৩০-৪০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান রনি। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে কাস্টমস ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অর্থনীতি ও ব্যবসা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ