মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সোনারগাঁয়ে অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মো. মমিন (৩৫) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আজ বুধবার (২০মে) সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত ওই অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়। নিহত মমিন সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। বাসস্ট্যান্ডের লাইনম্যান শাহিন চালক মমিনের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০ টাকা চাঁদা আদায় করেন। এর কিছুক্ষণ পর সে আবারও মমিনের কাছে পুনরায় টাকা দাবি করে। মমিন দ্বিতীয়বার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লাইনম্যান শাহিন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। লাঠির আঘাতে মমিনের মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
উপস্থিত অন্য চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে লাইফ সাপোর্টে দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ বুধবার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে অটোরিকশা চালক মমিনের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জনতা। সকাল থেকেই লাঠিসোটা নিয়ে শত শত মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশ অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি বিশাল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, “মাত্র ১০ টাকা চাঁদার জন্য একজন অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নির্মম। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মূল অভিযুক্ত লাইনম্যান শাহিনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
অপরাধ ও জেলা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ