একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, বদলে যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা
দেশের দীর্ঘদিনের আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ মোট ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রায় ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকার এসব প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ পরিকল্পনা।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্পের প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। পুরো প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছর থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও এর সঙ্গে সংযুক্ত নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে পানির সংকট তৈরি হয়, তা মোকাবিলায় এই ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। সেই পানি ব্যবহার করে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে স্পিলওয়ে, আন্ডার স্লুইসগেট, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সুবিধা। প্রকল্প থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও দেখছে সরকার।
এছাড়া কৃষি, মৎস্য ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ধান উৎপাদন প্রায় ২৪ লাখ টন এবং মাছ উৎপাদন ২ লাখ টনের বেশি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অন্তত ১৯ জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ