ধান পচছে মাঠে, কৃষকের চোখে জল — শ্রমিক নেই, দামও নেই
সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠেছে। কিন্তু সেই সোনা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। একদিকে অকাল বৃষ্টিতে নিচু জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিক মিলছে না। আর কোনোমতে ধান কেটে বাজারে নিয়ে গেলেও ন্যায্য দাম নেই। তিন দিক থেকে চাপে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দেশের একাধিক জেলার কৃষকরা।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এ মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে ভারী বর্ষণে নিচু এলাকার কমপক্ষে ৩৫ হেক্টর জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করলেও শ্রমিক সংকটে সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। পানিতে ডুবে থাকা ধান পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
শ্রমিকের মজুরি এ বছর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। চুক্তিতে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটাতে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সঙ্গে মাড়াই বাবদ আরো ১,২০০ টাকা। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে পরিস্থিতি আরও কঠিন। সেখানে দেড় মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের একদিনের মজুরি উঠছে না। খাওয়াসহ একজন শ্রমিকের পেছনে দিনে খরচ পড়ছে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। উপজেলায় এ মৌসুমে ১৬,২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হলেও এখনও হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি। বালিজুড়ী ইউনিয়নের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, “ধারদেনা করে চাষ করেছি। এখন দাম না পেলে ঋণ শোধ করব কীভাবে?”
নওগাঁর নিয়ামতপুরেও একই চিত্র। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় পাকা ধান মাঠেই পড়ে আছে। কালবৈশাখী ও উজানের পানি বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে উপজেলার ২২টি খাল খননের তালিকা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে যে কৃষক মাঠে দাঁড়িয়ে হিসাব মেলাতে পারছেন না — তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোনো সান্ত্বনা নয়।
ফসলের মৌসুমে কৃষকের ঘরে আনন্দ নয়, এবার এসেছে দুশ্চিন্তা। রাষ্ট্র যদি সময়মতো সাড়া না দেয়, এই ক্ষতি কেবল কৃষকের একার নয় — গোটা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার উপরই এর ছায়া পড়বে।
ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ