মোকাররম হত্যা: মরদেহ ৮ টুকরা করে ফেলে, পরে ‘বিরিয়ানি খেয়ে পার্টি’ অভিযুক্তদের
রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়াকে হত্যার ঘটনায় ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, হত্যার পর মোকাররমের মরদেহ ৮ টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তরা স্বাভাবিকভাবে হোটেলে গিয়ে বিরিয়ানি খান এবং রাতে ছাদে আড্ডা ও পার্টি করেন।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর মুগদা এলাকার আবদুল গনি রোডের দুই বাড়ির মাঝখানের ফাঁকা জায়গা থেকে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পাশের ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় মাথার অংশও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। তার নাম মোকাররম মিয়া। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে র্যাব হেলেনা বেগম নামে এক নারী ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার বিস্তারিত তথ্য।
র্যাব জানায়, মোকাররম তার এক বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সেই সম্পর্কের সূত্রে তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা নামে এক নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে ৫ লাখ টাকা দেন মোকাররম।
গত বুধবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নিজের বাড়িতে না গিয়ে প্রেমিকা তাসলিমার কাছে যান তিনি। পরে তাসলিমা তাকে বান্ধবী হেলেনার বাসায় নিয়ে ওঠান। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব দেন মোকাররম। তবে তাসলিমা রাজি না হওয়ায় নিজের দেওয়া টাকা ফেরত চান তিনি এবং ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে দাবি করেছে র্যাব।
এরপরই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি জেগে ওঠেন। তখন হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কোপ দেওয়া হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও আঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে সহজে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরদিন অভিযুক্তরা একটি হোটেলে গিয়ে খাবার খান এবং রাতে বাসায় ফিরে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটান। পরে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের পর মূল অভিযুক্ত তাসলিমা আত্মগোপনে চলে যান। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
📍 আরডিএম প্রতিনিধি | আরডিএম নিউজ ২৪
📍 ঢাকা, বাংলাদেশ