গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ খুন: ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো নৃশংস হত্যার বিবরণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ ও নির্মম তথ্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মাজহারুল হক জানান, নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। অপর শিশু ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হত্যার আগে শারমিন খানমকে হাত ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। নিহতদের শরীরে কোনো চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন নমুনা সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা বাদী হয়ে তার স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে শনিবার (৯ মে) সকালে রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট ও অভিযোগপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ