ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে ইরাকে গোপন হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব ও কুয়েত: প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

admin

May 14, 2026

ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে ইরাকে গোপন হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব ও কুয়েত: প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক ফ্রন্টে ঘটে গেছে এক গোপন সামরিক অভিযান। ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত গোপনে বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী কুয়েতের ভূখণ্ড থেকেও ইরাকের ভেতরে প্রতিশোধমূলক রকেট হামলা চালানো হয়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর সামরিক প্রতিরোধ কৌশলের অংশ হিসেবেই এই গোপন হামলাগুলো সংঘটিত হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

সীমান্ত এলাকায় সৌদি আরবের গোপন অভিযান:
রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে পশ্চিমা ও ইরাকি সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, সৌদি বিমানবাহিনী তাদের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন ইরাকি অঞ্চলে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানগুলোতে একাধিক বিমান হামলা চালায়। ৭ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই এই হামলাগুলো চালানো হয়। মূলত যেসব ঘাঁটি থেকে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছিল, সুনির্দিষ্টভাবে সেগুলোকেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এই অভিযানে।

কুয়েত থেকে রকেট হামলা ও হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ধ্বংস:
ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েত ভূখণ্ড থেকেও অন্তত দুবার ইরাকের অভ্যন্তরে শক্তিশালী রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলে দক্ষিণ ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’-র ওপর চালানো এক হামলায় গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হন। এই হামলায় তাদের ড্রোন পরিচালনা ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে এই রকেটগুলো কুয়েতি বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা ছুড়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরাসরি ইরানেও আঘাত হানে রিয়াদ ও আবুধাবি:
কেবল ইরাকেই নয়, যুদ্ধের সময় নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরব সরাসরি ইরানেও হামলা চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিয়াদ সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে আঘাত হানল। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতও একইভাবে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। মূলত ইরাক থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত রিয়াদ ও কুয়েত সিটির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়।

চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা ও আস্থার সংকট:
এসব আন্তঃসীমান্ত হামলার জেরে দেশগুলোর মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। লাগাতার ড্রোন হামলা এবং বসরার কুয়েতি কনস্যুলেটে হামলার জেরে যুদ্ধের সময় কুয়েত তিনবার ইরাকি প্রতিনিধিকে তলব করে কড়া বার্তা দেয়। সৌদি আরবও গত ১২ এপ্রিল ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখল এবং ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকেই ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আস্থার চরম সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরাকে ইরানপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও সৌদি ও কুয়েত সীমান্তে নজরদারি ড্রোন উড়িয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী হামলার ছক কষছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ