অপারেশন সচল রাখতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জরুরি ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায়

admin

May 13, 2026

অপারেশন সচল রাখতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জরুরি ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায়

দেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট) তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে জরুরি ভিত্তিতে ১,০০০ কোটি টাকা দাবি করেছে। কয়লা আমদানির ব্যয় মেটানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় এই বিশাল অংকের তহবিল দ্রুত ছাড় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংকটের মূলে যা রয়েছে:
গত ১০ মে বিপিডিবি চেয়ারম্যানকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারি জানান, বর্তমানে প্ল্যান্টটি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ২৪ থেকে ২৬ কোটি টাকার কয়লা প্রয়োজন হচ্ছে। সেই হিসেবে মাসে কেবল কয়লা কিনতেই ব্যয় হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ঋণের কিস্তি, কাস্টমস ডিউটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে আরও ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। আগামী ২৪ মে থেকে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায় ২০ মে-র মধ্যে এই অর্থ ছাড় করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে বড় প্রভাব:
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি প্রধান স্তম্ভ। গত এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটি ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, যা জাতীয় গ্রিডের মোট সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে এই হার ছিল ১১.৫ শতাংশ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহের সময় রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে বা উৎপাদন কমে গেলে সারাদেশে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এর ফলে সরকার ব্যয়বহুল ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালাতে বাধ্য হবে, যা উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে।

বকেয়া ও ভর্তুকি জটিলতা:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিপিডিবির কাছে রামপাল কেন্দ্রের বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা। তবে সরকার সময়মতো ভর্তুকির টাকা ছাড় না করায় বিপিডিবি এই বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ৩৬,০০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকলেও বিপিডিবি ইতোমধ্যে ৫০,০০০ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে। ফলে তহবিলের এই ঘাটতি পুরো বিদ্যুৎ খাতের জন্যই বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিআইএফপিসিএল সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো তহবিল না পেলে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধে তারা খেলাপি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। পাশাপাশি কয়লা আমদানি ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চাকা যেকোনো সময় থমকে যেতে পারে।

অর্থনীতি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ