টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: ৯ মানব পাচারকারী আটক, ১১ রোহিঙ্গাসহ উদ্ধার ৫০

admin

June 6, 2026

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: ৯ মানব পাচারকারী আটক, ১১ রোহিঙ্গাসহ উদ্ধার ৫০

মালয়েশিয়া পাচারের প্রাক্কালে গভীর রাতে ট্রলার জব্দ; ভালো চাকুরির লোভ দেখিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ভয়ংকর সিন্ডিকেটের পর্দা ফাঁস।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতিকালে ১১ জন রোহিঙ্গাসহ ৫০ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে অত্যন্ত নাটকীয় এক অভিযানে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় ৯ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার (৬ জুন) টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফট্যানেন্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকিন সিদ্দিকী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই বড় সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১১ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত জেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে আটক হওয়া ৯ পাচারকারীই টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মানব পাচারের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টেকনাফ উপকূলীয় সাগরে কোস্ট গার্ডের কয়েকটি আউটপোস্টের সদস্যরা একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পাচারকারীরা একটি বড় ট্রলারে করে ভুক্তভোগীদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফ উপকূলে জড়ো করেছিল—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় কঠোর নজরদারি জোরালো করা হয়। অভিযান চলাকালীন সাগরে একটি সন্দেহভাজন ট্রলার গতিবিধি পরিবর্তন করতে দেখলে কোস্ট গার্ডের টহল দল সেটিকে থামার নির্দেশ দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চালকসহ পাচারকারীরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কোস্ট গার্ডের ক্ষিপ্র ও কৌশলগত তৎপরতায় ট্রলারটি ঘেরাও করে জব্দ করা হয়। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি করে রাখা ৫০ জন ভুক্তভোগীকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ৯ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লে. কমান্ডার মুত্তাকিন সিদ্দিকী এই চক্রের ভয়ংকর ও প্রতারণামূলক ‘মোডাস অপারেন্ডি’ বা কার্যপদ্ধতি ফাঁস করে জানান, এই সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো মূলত অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বাংলাদেশি নাগরিক এবং ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে। তাদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি এবং উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে নিয়ে আসা হতো। এরপর ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন গোপন ও দুর্গম আস্তানায় আটকে রেখে তাদের ওপর চলত অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এখানেই শেষ নয়, পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের জন্যও চাপ দিত। চক্রটি উদ্ধার হওয়া এই বিশাল দলটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গভীর সমুদ্রপথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাচারের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করেছিল। আটককৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং আজই তাদের সংশ্লিষ্ট মামলাসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড প্রশাসন।

অপরাধ ও আইন শৃঙ্খলা প্রতিবেদক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ