চীনে যাচ্ছে ২,৬০০ কিমি দীর্ঘ রুশ গ্যাস পাইপলাইন, অর্থনীতি সচলের স্বপ্ন পুতিনের
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের জ্বালানি বাজার হারানোর ধাক্কা কাটাতে এবং স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবার চীনের সাথে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে যৌথ ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে এই মেগা প্রকল্পের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হওয়া বাকি রয়েছে।
পরিকল্পিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ পাইপলাইনটি প্রতি বছর ৫ হাজার কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস মঙ্গোলিয়ার ওপর দিয়ে চীনে পরিবহন করবে। এই গ্যাসের মূল উৎস রাশিয়ার দূরবর্তী আর্কটিক অঞ্চলের ইয়ামাল গ্যাসক্ষেত্র। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের জন্য সবচেয়ে বড় এবং কৌশলগত বাজারে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ও মূল্যের বিরোধ
এই নতুন পাইপলাইনটি মূলত বর্তমানে সচল থাকা ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–১’ পাইপলাইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। গত বছর ওই প্রথম পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে চীনে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পুতিন ও শি এর সক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করতে একমত হন।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম ২০২০ সালে এর সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা ৩০ বছরের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক গ্যাস সরবরাহ স্মারক চুক্তির ঘোষণা দেয়। তবে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বের মুখে পড়েছে। পুতিন জানিয়েছেন, ইউরোপের জ্বালানি বাজারের মতো এখানেও আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক সূত্র অনুযায়ী গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে।
ধীরে চলো নীতি বেইজিংয়ের, তবু পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত
রাশিয়া এই প্রকল্প নিয়ে অতি-উৎসাহী হলেও চীন এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে বেশ সীমিত মন্তব্য করেছে। গ্যাজপ্রম যখন ৩০ বছরের স্মারক চুক্তির ঘোষণা দেয়, তখন বেইজিং থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের গবেষণা উইং জানিয়েছে, এত বড় গ্যাস প্রকল্প নির্মাণে সাধারণত অন্তত ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। তবে ধীরগতির নীতি নিলেও মার্চ মাসে প্রকাশিত চীনের ‘১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’য় ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে চীনের জ্বালানি চাহিদার এক বড় অংশ পাইপলাইন গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে চীনের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৯৪ লাখ টনে, যা দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১৯ শতাংশ। বর্তমানে পাঁচটি আন্তর্জাতিক পাইপলাইনের মাধ্যমে মধ্য এশিয়া (তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান), মিয়ানমার এবং রাশিয়া থেকে চীনে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ সাখালিন থেকে বার্ষিক ১ হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে দুই দেশ যৌথভাবে আরেকটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে।
আন্তর্জাতিক ও জ্বালানি ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ