পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিছা হত্যার প্রধান আসামি ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিছা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে এখনো পুরোপুরি জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ সেকশনের বি-ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে রামিছার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হত্যার পর শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিচ্ছিন্ন মাথাটি বাথরুমের ভেতর থেকে এবং মূল দেহটি একটি বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করে।
জানা গেছে, পেশায় রিকশা মেকানিক প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা গত দুই মাস ধরে তার স্ত্রীসহ ওই ভবনেরই পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর তিনি বাথরুমের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেলের স্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রামিছা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার গত প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করে আসছেন।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, রামিছার মা প্রথমে ফ্ল্যাটের বাইরে তার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি প্রতিবেশী সোহেলের দরজায় কড়া নাড়েন, কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বারবার চেষ্টা করেও দরজা না খোলায় সন্দেহ আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সোহেলের কক্ষ থেকে রক্তের দাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের ধারণা, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পরই হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ জানা যাবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।
অপরাধ ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ