মুমিনুলকে ছাড়িয়ে মুশফিকের রেকর্ড সেঞ্চুরি, সিলেট টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট ম্যাচে ঐতিহাসিক এক জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা। এর ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়সম ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। গতকাল দিনের শেষ ভাগে এই রান তাড়া করতে নেমে ২ ওভার ব্যাটিং করলেও স্কোরবোর্ডে কোনো রান তুলতে পারেনি সফরকারীরা। ফলে শেষ দুই দিনে জয়ের জন্য বাবর আজমদের সামনে একপ্রকার অসম্ভব সমীকরণই অপেক্ষা করছে।
গতকাল বাংলাদেশের দিনটি মূলত নিজেদের করে নেন মুশফিকুর রহিম। আগের দিনের ৩ উইকেটে ১১০ রানের সাথে ব্যক্তিগত শূন্য রান নিয়ে গতকালের খেলা শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেন ১৩৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি। এই নজরকাড়া শতকের মধ্য দিয়ে তিনি মুমিনুল হককে (১৩টি) ছাড়িয়ে লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির একক মালিকানা অর্জন করেছেন।
কেবল টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডই নয়, এই দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৬ হাজার রানের অনন্য মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মোট রান ১৬ হাজার ৫৮, যা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। ১৫ হাজার ১৯২ রান নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তামিম ইকবাল এবং ১৪ হাজার ৭৩০ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া ৮ হাজার ৮৪১ রান নিয়ে শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করছেন লিটন দাস।
মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডের দিনে ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন লিটন দাসও। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করার পর গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি খেলেন ৬৯ রানের মূল্যবান এক ইনিংস। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দিয়েছে।
সিলেট স্টেডিয়ামের অতীত ইতিহাস এবং বর্তমান পরিস্থিতি—দুটিই এখন সম্পূর্ণ বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে। এই মাঠে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচটি টেস্টের মধ্যে চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একটি। সেটিও ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের দেওয়া মাত্র ১৭৪ রানের লক্ষ্য। সেখানে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ৪৩৭ রান।
এছাড়া পরিসংখ্যান বলছে, এই টেস্টের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা শেষ তিনটি টেস্টের সবকটিতেই হেরেছে পাকিস্তান এবং কোনোটিতেই নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি। যেখানে দলীয় স্কোর দুই শ পার করতে পারছে না সফরকারীরা, সেখানে সিলেটের স্পিন-বান্ধব উইকেটে ৪৩৭ রান তাড়া করে পাকিস্তানের জয় পাওয়াটা এখন রীতিমতো অলীক স্বপ্ন। সব মিলিয়ে সিলেট টেস্টে চালকের আসনেই রয়েছে বাংলাদেশ।
ক্রীড়া ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ