সন্দেহ থেকে রাজত্ব — বিশ্বচ্যাম্পিয়নের কারিগর লিওনেল স্কালোনির জন্মদিনে আর্জেন্টিনার কৃতজ্ঞতা
আজ ১৬ মে। আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম পা দিলেন ৪৮ বছরে। লিওনেল স্কালোনি — যাকে একসময় ‘অনভিজ্ঞ অস্থায়ী কোচ’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ তিনিই আধুনিক আর্জেন্টিনা ফুটবলের মূল স্থপতি।
২০১৮ বিশ্বকাপের বিপর্যয়ের পর ভাঙা আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পান স্কালোনি। কোনো বড় নাম নেই, ইউরোপের অভিজাত কোচিং পরিচয় নেই — শুধু একটি শান্ত মাথা ও নতুনভাবে শুরু করার সংকল্প। আর্জেন্টাইন মিডিয়া তখন তাকে ‘প্রশাসনিক সমাধান’ বলে কটাক্ষ করেছিল।
কিন্তু স্কালোনি যা করলেন, সেটা ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নিরব বিপ্লব।
মেসিকে মুক্তি দিলেন যিনি
দুই দশক ধরে লিওনেল মেসির কাঁধে চাপানো ছিল গোটা একটি জাতির আবেগ। প্রতিটি হার, প্রতিটি ফাইনাল পরাজয় মেসির ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হতো। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের পর মেসি সাময়িক অবসরও নিয়েছিলেন — চাপের ভার সইতে না পেরে।
স্কালোনি সেই সমীকরণ বদলে দিলেন। তিনি ‘মেসির আর্জেন্টিনা’ গড়েননি, গড়েছেন ‘মেসিকে কেন্দ্রে রেখে আর্জেন্টিনা’। রড্রিগো ডি পল, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, আঞ্জেল ডি মারিয়া — সবাই নিজ নিজ ভূমিকায় দলকে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিতে পরিণত করলেন। মেসির ওপর থেকে একক দায়িত্বের বোঝা নামল। তিনি হলেন আরও মুক্ত, আরও বিধ্বংসী।
কৌশল নয়, সংস্কৃতি
স্কালোনির সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো নির্দিষ্ট ট্যাকটিক্স নয় — বরং তাঁর নমনীয়তা। প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি বুঝে গঠন ও কৌশল পরিবর্তনের ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে রেখেছে। তিনি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করেননি — বিশ্বাস করেছেন। ড্রেসিং রুমে তৈরি করেছেন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়ও মাঠে থাকাদের মতোই উদযাপন করে।
এটাই ছিল সেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন — একটি মানসিকভাবে স্থিতিশীল দল, যা আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে বিরল।
২০২৬ বিশ্বকাপ — রাজবংশের সন্ধিক্ষণ
আসছে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রবেশ করছে রাজকীয় আত্মবিশ্বাসে। স্কালোনির দল যদি এই বিশ্বকাপও জয় করে, তাহলে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে একটানা চারটি বড় শিরোপার নজির স্থাপিত হবে — আধুনিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে যা অভূতপূর্ব।
সেটা হলে এটা আর শুধু পুনরুজ্জীবনের গল্প থাকবে না — হবে রাজবংশের সূচনার দলিল।
ঘরের সবচেয়ে নিরব মানুষটাই যখন সবচেয়ে বড় নেতা
ফুটবলের ইতিহাস সাধারণত গোলাবারুদের শব্দ মনে রাখে — বিশাল ব্যক্তিত্ব, বড় কথা, বড় দাবি। স্কালোনি ছিলেন তার উল্টো। নিরব, অহংকারশূন্য, মিডিয়া থেকে দূরে। কিন্তু তাঁর শান্ত উপস্থিতিই কোটি আর্জেন্টাইনের হৃদয়ে ঝড় তুলেছে।
পুহাতোর এক ছোট শহর থেকে উঠে আসা এই মানুষটি প্রমাণ করেছেন — নেতৃত্বের জন্য সবসময় উচ্চস্বর লাগে না। কখনো কখনো সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনেন ঘরের সবচেয়ে নিরব মানুষটি।
শুভ জন্মদিন, মাইস্ত্রো স্কালোনি।
স্পোর্টস ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ